— প্রতীকী চিত্র।
পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হলে বাড়তি ক্লাসের বন্দোবস্ত করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। শুধু তা-ই নয়, প্রয়োজনে শিক্ষকদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। শিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
সংসদ সূত্রের খবর, স্কুল ভিত্তিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বিজ্ঞানসম্মত ভাবে পর্যালোচনা করার জন্য এ বারই প্রথম এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে সংসদ। কিন্তু কী ভাবে সেই তথ্য পর্যালোচনা করা যাবে, তা বিশদে প্রকাশ করলেন কর্তৃপক্ষ।
উচ্চ মাধ্যমিকের ফলঘোষণার দিনই সাংবাদিক সম্মেলনে এই পদ্ধতির কথা ঘোষণা করেছিলেন সভাপতি পার্থ কর্মকার। বুধবার সংসদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংসদ। যার নাম ‘বক্স প্লট’। এমনকি তা বিশ্লেষণ করার পরে ১৫ জুনের মধ্যে সংসদে রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা ভিত্তিক ই-মেল উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে। সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে চাইছে, তাই এই বিশেষ উদ্যোগ।’’
পার্থ জানান, সংসদের নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলই তাঁদের স্কুলভিত্তিক ফলাফল দেখতে পাবে। সেটি বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট পাঠানোর পরে সংসদও উদ্যোগী হবে। কোথায়, কেন পড়ুয়ারা কম নম্বর পেয়েছেন বা কোন বিষয়ে কম নম্বর পেয়েছেন— তা খতিয়ে দেখা হবে। এর পর শিক্ষক, পড়ুয়া, স্কুল এবং অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ত্রুটিগুলি সংশোধনের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে স্কুলজীবন শেষ করেছেন। কিন্তু ওই স্কুল থেকেই আগামী বছর যাঁরা পরীক্ষা দেবে তাদের ফলের দিকে তাকিয়েই আগাম ব্যবস্থা নেবেন কর্তৃপক্ষ। যেখানে যেমন প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী পড়ুয়াদের বাড়তি ক্লাসের সুযোগ দিতে হবে। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে জানান সংসদ সভাপতি।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকাশিত বক্সপ্লটে চারটি ভাগ করা রয়েছে। কত জন পড়ুয়া ২৫ শতাংশের নীচে নম্বর পেয়েছেন— তা যেমন জানা যাবে, তেমনই ৫০ শতাংশ এবং ৭৫ শতাংশ বা তার নীচের থাকা ছাত্রছাত্রীদেরও সংখ্যাও জানা যাবে। আবার সর্বোচ্চ নম্বরের উল্লেখও রয়েছে, যাঁরা ৯০ শতাংশের উপর নম্বর পেয়েছেন। এর ফলে প্রতিটি স্কুলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, সার্বিক ফলাফল কেমন। প্রতিটি পর্যায়ের জন্য কী পদক্ষেপ করা যাবে, তার উল্লেখও করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে ।