Central observers: ‘এখনও মাঠে শৌচ!’

শ্রমিকরা পরিদর্শকদের জানান, মজুরি পেতে মাঝেমধ্যেই অনেক দেরি হয়। সে কারণে অনেকেই কাজে ‘অনীহা’ প্রকাশ করেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:০৭
Share:

বাঁকুড়ার পুনিশোল পঞ্চায়েতের দুবড়াকোন গ্রামে পর্যবেক্ষক দল। নিজস্ব চিত্র

পাকা বাড়ি থাকলেও মাঠে-ঘাটে শৌচকর্ম সারার অভ্যাসে ছেদ পড়েনি অনেকের। বার বার প্রশাসনের তরফে বার্তা দিয়েও সে প্রবণতা বন্ধ করা যায়নি। এ বারে কেন্দ্রের ‘ন্যাশনাল লেভেল মনিটরিং’ দলের সদস্যেদের সামনেই উঠে এল এমন তথ্য।

Advertisement

শুক্রবার বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের রতনপুর, ওন্দা ২ ও পুনিশোল পঞ্চায়েতে একশো দিনের কাজ ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজ পরিদর্শন করেন তাঁরা। পুনিশোল পঞ্চায়েতের দুবড়াকোন গ্রামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছেন দুলাল মাল। তাঁর বাড়িতে যান দলের প্রতিনিধিরা। দুলাল বাড়ি নির্মাণের কাজ অনেকটা সেরে ফেলেছেন। বাকি দেওয়ালের প্লাস্টার ও মেঝে তৈরি। কোথায় শৌচালয় গড়ছেন, দুলালের কাছে সে প্রশ্ন করেন দলের নেতৃত্বে থাকা আধিকারিক এস এস চৌহান। শৌচালয় গড়া হয়নি জানালে প্রতিনিধিরা জানতে চান, কোথায় শৌচকর্ম করেন তাঁরা। উত্তরে দুলাল জানান, খোলা মাঠেই সে কাজ করেন। শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা। কেন শৌচালয় বানানো হয়নি, এ প্রশ্নের উত্তরে দুলাল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের বলেন, ‘‘সরকারি প্রকল্পে শৌচালয় বানানোর টাকা পেয়েছি। তবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় টাকায় কুলোচ্ছে না।” তবে দুলালকে তাঁরা জানিয়ে দেন, শৌচালয় বাড়িতে গড়তেই হবে।

পুনিশোল পঞ্চায়েতের প্রধান রেজাউল হক মণ্ডল বলেন, “সরকারি প্রকল্পে শৌচালয় পেয়েছেন অনেকেই। কিন্তু কিছু মানুষ তা বানাচ্ছেন না। শীঘ্রই তাঁদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ হবে।” বিডিও (ওন্দা) শুভঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। খোঁজ নেওয়া হবে।”

Advertisement

গত সোমবার থেকে পাত্রসায়র, ইন্দাস, জয়পুর ও ওন্দা ব্লকের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে একশো দিনের কাজ ও কেন্দ্রীয় আবাস যোজনা প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা। এ দিন চৌহান বলেন, “সরকারি প্রকল্পগুলি ঠিক পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, বা সেগুলির সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন কি না, মূলত সে দিকটিই সমীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এ নিয়ে কোথাও ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে কিনা, সে সংক্রান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া হবে। কেন্দ্রের তরফে তা রাজ্যকে জানানো হবে।”

এ দিন পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি ব্লকের সুইসা-তুনতুড়ি পঞ্চায়েতের তিলকডি গ্রামে আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির কাজ দেখে ‘ন্যাশনাল লেভেল মনিটরিং’ দলের দুই প্রতিনিধি ‘সন্তুষ্ট’ বলে দাবি ব্লক প্রশাসনের। তাঁরা গ্রামের ষষ্ঠীদাস গোস্বামীর বাড়ি যান। সেখানে তখন বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। কাজ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। আবাস যোজনায় বাড়ির পাশাপাশি শৌচালয় নির্মাণ হচ্ছে দেখে ‘সন্তোষ প্রকাশ’ করেন তাঁরা। আধিকারিকের কাছে ষষ্ঠীদাস দাবি করেন, ‘‘যে টাকা দেওয়া হয়, তাতে ভাল ভাবে ঘর তৈরি সম্ভব নয়।’’ টাকার পরিমাণ বাড়ানোর আর্জিও জানান তিনি। আধিকারিকেরা সুইসায় ঢালাই রাস্তা তৈিরর কাজও ঘুরে দেখেন। দেখেন ‘হাপা’ তৈরির কাজও।

বাঘমুণ্ডির সেরেংডি পঞ্চায়েতের কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন দুই আধিকারিক। প্রথমে তাঁরা ভুরশুডি গ্রামে যান। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানে একশো দিনের কাজ প্রকল্পের কাজ চলছে। তাঁরা কথা বলেন কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। জানতে চান, তাঁরা মজুরি ঠিক মতো পান কিনা। কাজ পেতে তাদের হয়রান হতে হয় কিনা, সে প্রশ্নও শ্রমিকদের করেন তাঁরা। উত্তরে শ্রমিকরা পরিদর্শকদের জানান, মজুরি পেতে মাঝেমধ্যেই অনেক দেরি হয়। সে কারণে অনেকেই কাজে ‘অনীহা’ প্রকাশ করেন।

গ্রামে রকমারি আনাজ আনাজ চাষ হচ্ছে দেখে দৃশ্যতই খুশি দুই পরিদর্শক। চাষের কাজে নিযুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা রাজলক্ষ্মী সিংবাবু কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের কাছে দাবি করেন, গত বছর তাঁরা প্রায় লক্ষাধিক টাকার আনাজ বেচে লাভের মুখ দেখেছেন। মাঠা পঞ্চায়েত এলাকাতেও পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দুই আধিকারিক। বিডিও (বাঘমুণ্ডি) দেবরাজ ঘোষ বলেন, ‘‘তিনটি পঞ্চায়েত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন ওই আধিকারিকেরা। কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।’’ যদিও এ নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে রাজি হননি পরিদর্শকেরা। তাদের এক জনের কথায়, ‘‘কাজ দেখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জায়গায় রিপোর্ট দেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement