লাঠি মারছে কারা, খুঁজছে শহর

রাতের অন্ধকারে মোটরবাইকে চেপে কিছু ছেলে কোনও সাইকেল বা বাইক আরোহীর পিঠে সপাটে লাঠির ঘা মেরে পালিয়ে যাচ্ছে! বাঁকুড়ায় গত কয়েক দিনে একাধিক এ রকম ঘটনা ঘটলেও এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। কারণ, ছিনতাই বা লুঠপাট হচ্ছে না। স্রেফ মজা করার জন্যই কেউ এ রকম কাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে শহরবাসীর একাংশের ধারণা। বাসিন্দাদের বড় অংশই আবার একে গুজব বলে ধর্তব্যের মধ্যে আনছেন না। পুলিশেও কোনও অভিযোগ হয়নি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:২৪
Share:

রাতের অন্ধকারে মোটরবাইকে চেপে কিছু ছেলে কোনও সাইকেল বা বাইক আরোহীর পিঠে সপাটে লাঠির ঘা মেরে পালিয়ে যাচ্ছে! বাঁকুড়ায় গত কয়েক দিনে একাধিক এ রকম ঘটনা ঘটলেও এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। কারণ, ছিনতাই বা লুঠপাট হচ্ছে না। স্রেফ মজা করার জন্যই কেউ এ রকম কাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে শহরবাসীর একাংশের ধারণা। বাসিন্দাদের বড় অংশই আবার একে গুজব বলে ধর্তব্যের মধ্যে আনছেন না। পুলিশেও কোনও অভিযোগ হয়নি।

Advertisement

গুজব বা যাই হোক, ঘটনাটা যে শহরবাসীর মধ্যে যে কিছুটা হলেও অলোড়ন তুলেছে, তা টের পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে দিন পনেরো আগে। রাজগ্রামের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ হেঁসের রঙের দোকান রয়েছে পোয়াবাগানে। এক রাতে তিনি দোকান বন্ধ করে সাইকেল বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর দাবি, একটি স্কুটার ও একটি মোটরবাইকে চড়ে মোট চার জন পিছন থেকে এসে আচমকাই তাঁর পিঠে সজোরে লাঠির ঘা বসায়। তিনি সাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইক ও স্কুটার সেখান থেকে ধাঁ! চার দিন পরে ফের তাঁর উপর একই কায়দায় হামলা হয় বলে অভিযোগ। সে দিন তিনি ছাড়াও আর এক সাইকেল আরোহীর পিঠে লাঠির ঘা মারে ওই যুবকেরা।

তবে হামলার মুখে পড়া অন্য সাইকেল আরোহীকে গৌরাঙ্গবাবু চেনেন না বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথম দিন কম আঘাত লাগলেও, দ্বিতীয় দিনের মারের আঘাতে অন্তত ছ’দিন পিঠ যন্ত্রণায় কাতরেছি।’’ কিন্তু কেন থানায় অভিযোগ করেননি, তার জবাব দেননি তিনি। বরং বলেছেন, “শুনেছি হামলার মুখে পড়া অন্যান্য লোকজন থানায় অভিযোগ করেছেন। আরও অনেকে এ ভাবে মার খাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।’’ গৌরাঙ্গবাবুর মতোই নাকি শহরের বিভিন্ন জায়গায় আরও কয়েক জন মার খেয়েছেন ওই বাইক-বাজদের হাতে। কিন্তু, তাঁরা কারা, নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি। কোনও অভিযোগও থানায় হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ।

Advertisement

গোবিন্দনগর এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, এক রাতে রাজগ্রাম থেকে গোবিন্দনগর ফেরার পথে কারকডাঙা এলাকায় একটি বাইক দ্রুত গতিতে তাঁর পিছু নিয়েছিল। তিনি নিজের বাইকের আয়নায় বিষয়টি লক্ষ করছিলেন। একটু কাছাকাছি আসতেই পিছু নেওয়া বাইকটি হেড লাইট বন্ধ করে দেয়। সন্দেহ হওয়ায় অভিষেকবাবু বাইক ঘুরিয়ে নিজের হেড লাইট দিয়ে ওই বাইকবাজদের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পিছু নেওয়া লোকজন বাইকে তীব্র বেগে পালিয়ে যায়। ওই বাইকটিরও ব্যাক লাইট বন্ধ ছিল। বাইকে দু’জন ছিল। দু’জনের গায়েই ছিল জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট। অভিষেকবাবুর দাবি, “আমার উপর হামলার ছক কষেছিল ওই বাইকবাজরা। কিন্তু আমি বিষয়টি বুঝে গেছি বুঝেই পালিয়েছে। ছেলেগুলোকে ধরব ভেবে আমরা বন্ধুরা রাতে নানা চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছু করা যায়নি।’’

গুজবের উপরে ভর করে সম্প্রতি কাটজুড়িডাঙা মোড় এলাকায় এক বাইক-আরোহী যুবককে মারধরও করেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। পরে অবশ্য তাঁরা জানতে পারেন, ওই যুবক এই ঘটনায় জড়িত নন। শহরের শ্রীপল্লি এলাকার বাসিন্দা তারাপদ দে বলেন, “এই ঘটনাগুলো সত্যি কিনা, বুঝে উঠতে পারছি না। আমার ছেলে অনেক রাতে সাইকেল চালিয়ে টিউশন পড়ে থেকে বাড়ি ফেরে। এখন আমিই ছেলেকে পড়ার ওখানে ছেড়ে আসছি। নিয়েও আসছি।’’ জুনবেদিয়া এলাকার গৃহশিক্ষক গোপীনাথ কর্মকারের কথায়, “অনেক রাত পর্যন্ত ব্যাচ পড়াই। এই সব খবর শুনে পড়ুয়ারা আসতে চাইছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রাতে পড়ানোই বন্ধ করে দিয়েছি।’’

যদিও বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলেই দাবি করেছেন বাঁকুড়ার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। তাঁর মতে, কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে এই সব রটনা করে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি আদপে কী, তা বুঝে উঠতে পারছে না বাঁকুড়া পুলিশও। হাতেনাতে ধরতে সাদা পোশাকে রাতের অন্ধকারে শহরের ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। কোথাও সাইকেল নিয়ে, কোথাও বাইক নিয়ে, কোথাও আবার হেঁটেও পুলিশকর্মীরা ঘুরছেন। কিন্তু তাঁদের উপরে কেউ হামলা চালায়নি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাইক তল্লাশিও শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “বিষয়টা শুনে গুজব বলে মনে হলেও আমরা তদন্ত শুরু করেছি। হামলার মুখে পড়া কোনও ব্যক্তিকেও আমরা এখনও খুঁজে পাইনি। তবে কেউ যদি সত্যিই বাইকবাজদের হাতে মার খান, তা হলে সরাসরি থানায় জানালে তদন্তে সুবিধা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement