Coronavirus

‘আশা’য় ভরসা, জ্বরের খোঁজে বাড়ি বাড়ি

করোনা রোগী খুঁজতে ইতিমধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর স্পর্শকাতর এলাকায় যাঁদের ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ আছে শুধু তাঁদের র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার জন্য রূপরেখা তৈরি করেছে।

Advertisement

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২০ ০২:৩৩
Share:

মুখোমুখি: মুরারইয়ের একটি গ্রামে স্বাস্থ্য-সমীক্ষায় আশাকর্মী। নিজস্ব চিত্র

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আশাকর্মীদের উপরে ভরসা করছে প্রশাসন। তাঁদের সাহায্য করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁরা জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁচি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ (ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস), নিঃশ্বাসে কষ্ট (সিভিয়র অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস) নিয়ে কেউ ভুগছেন কি না তা খুঁজে বার করবেন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আশাকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই পরামর্শদাতা।

Advertisement

করোনা রোগী খুঁজতে ইতিমধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর স্পর্শকাতর এলাকায় যাঁদের ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ আছে শুধু তাঁদের র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার জন্য রূপরেখা তৈরি করেছে। এর সঙ্গেই করোনা মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করার জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই কাজ যাতে বীরভূম জেলাতেও ভালভাবে হয় সে জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে সোমবার বোলপুরে বৈঠক করেন করোনা সংক্রান্ত বীরভূম জেলার নোডাল অফিসার রাজেশ সিংহ। বৈঠক শেষে জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু জানান, ‘‘ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ ও নিঃশ্বাসে কষ্টের রোগী খুঁজতে আশাকর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করার কাজ করবেন।’’

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন জেলার ১৯টি ব্লকের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার-সহ জেলার সিউড়ি, বোলপুর মহকুমা নিয়ে গঠিত বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিকদের ও রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ব সংস্থার পরামর্শদাতারা জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক-সহ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু করেছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার প্রশাসনিক ভবনে প্রশিক্ষণ দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই পরামর্শ দাতা, চিকিৎসক অভিজিৎ দে ও পল্লব ভট্টাচার্য। নলহাটি ১ ও ২ ব্লক-সহ নলহাটি পুরসভা ও মুরারই ১ ও ২ ব্লকের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার-সহ স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিকরাও ছিলেন। ব্লক স্তরের আশাকর্মীদের তথ্বাবধায়করা উপস্থিত ছিলেন। আজ, বুধবার রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার অধীন আরও চারটি ব্লক, রামপুরহাট ১ ও ২ এবং ময়ূরেশ্বর ১ ও ২ ব্লকের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার-সহ স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার পরে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক-সহ স্বাস্থ্য কর্মী এবং আশাকর্মীদের তথ্ব্বাবধায়কদের প্রশিক্ষণ দেবেন ওই দুই চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনাভাইরাস দীর্ঘস্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারে। তাই করোনা রোগের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সমীক্ষার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের সমীক্ষা করা জরুরী। জ্বর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ শুধুমাত্র বাচ্চাদের বা বয়স্কদের নয়, সর্বস্তরের মানুষের করা হবে। নিরন্তরভাবে এই সমীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার এক আধিকারিক জানান, লকডাউন শুরুর পর আশাকর্মী এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা এতদিন সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছিলেন। এ বারে তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে জ্বর নিয়ে সমীক্ষার কাজ করবেন। এই দীর্ঘস্থায়ী কাজ কীভাবে করা হবে সেই ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেন পরামর্শদাতারা। আশাকর্মীরা জানান, তাঁদের চাকরির স্বার্থে যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া, পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ছাড়া কাজ করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।

রামপুরহাটের একটি নার্সিং হোমের কোভিড হাসপাতাল এবং বোলপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড হাসপাতালের প্রস্তুতি বা পরিকাঠামো সরেজমিন ঘুরে দেখবেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই দুই পরামর্শদাতা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে রিপোর্টও দেবেন তাঁরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement