পানীয় জল চেয়ে পথ অবরোধে বাসিন্দারা

জল, নিকাশি-সহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তা অবরোধ হল মানবাজারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ দাসপাড়া মোড়ে গণকপাড়া এবং কেয়টপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ মানবাজার-পুরুলিয়া সড়ক অবরোধ করেন। ঘণ্টা দুয়েক ধরে চলা অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যহত হয়। ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা। পরে বিডিও (মানবাজার ১) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০১৬ ০১:৩০
Share:

জল, নিকাশি-সহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তা অবরোধ হল মানবাজারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ দাসপাড়া মোড়ে গণকপাড়া এবং কেয়টপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ মানবাজার-পুরুলিয়া সড়ক অবরোধ করেন। ঘণ্টা দুয়েক ধরে চলা অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যহত হয়। ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা। পরে বিডিও (মানবাজার ১) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।

Advertisement

ওই এলাকার বাসিন্দা মেনকা আচার্য, প্রতিমা ধীবর, অঞ্জলি আচার্যদের অভিযোগ, বেশ কয়েক দিন ধরে পাড়ার সরবরাহের কলে জল আসছে না। যদি বা কখনও কয়েক মিনিটের জন্য আসে, সেই জলের তোড় খুবই কম থাকে। প্রতিমাদেবী বলেন, ‘‘কলে কখন জল আসছে তার জন্য আমাদের সারাক্ষণ কান পেতে থাকতে হয়। শব্দ শুনেই ছুট না লাগালে আর জল পাওয়া যায় না। আগে সবার নেওয়া হয়ে যাওয়ার পরেও জল থাকত। এখন দু’ বালতি জলও মেলা ভার হয়ে গিয়েছে।’’ ওই এলাকার কিশোরী অঞ্জলি আচার্য জানায়, রোজ সকালে জলের লাইনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে তার পড়াশোনা শিকেয় ওঠে। কিন্তু সরবরাহের জল ছাড়া পানীয় জলের অন্য কোনও বন্দোবস্ত না থাকায় লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া উপায়ও থাকে না। স্থানীয় কিশোর সুদীপ আচার্যের দাবি, গনকপাড়া এবং কেয়টপাড়ায় একে জল মেলে না বলে অন্য পাড়ার কলে জল নিতে গেলেও ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। সুদীপ বলে, ‘‘জল নিয়ে পাড়ায় ঝামেলা লেগেই থাকে। পড়শিদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’’ মেনকাদেবী, প্রতিমাদেবীরা বলেন, ‘‘কোনও উপায় না থাকায় রাস্তায় নামতে হয়েছে। না হলে সাত সকালে সমস্ত কাজ ফেলে অবরোধ করতে বসব কেন!’’

পানীয় জলের সমস্যা ছাড়াও এলাকার বেহাল নিকাশি এবং লোহাপুকুর নামে একটি পুকুর সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন অবরোধকারীরা। বাসিন্দারা জানান, চলতি মরশুমে তাপমাত্রা খুবই বেশি থাকায় পুকুরের জল তলানিতে ঠেকেছে। স্নান এবং গবাদি পশুর পানের জল নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অবিলম্বে পুকুরটি সংস্কারের দাবি তুলেছেন তাঁরা। বিডিও (মানবাজার ১) সত্যজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘‘সরবরাহের জলের তোড় কম থাকার বিষয়টি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দেখার কথা। এ বিষয়ে দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। লোহাপুকুর সংস্কারের আবেদন করলে সেই খাতে টাকাও বরাদ্দ করা হবে। কিন্তু নিকাশি নিয় স্থানীয় বাসিন্দারা সচেতন না হলে সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়।’’ তিনি জানান, পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে এক বার নালা সংস্কার করে পরিবেশ রক্ষা কমিটির হাতে নিকাশির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement