খোলাবাজারে প্রতিটির দামই বেশ চড়া। ওই দাম দিয়ে কিনে লাগানোর পরেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফল ভাল মেলে না। তবু সরকারের ঘর থেকে বিনা পয়সায় মেলা ভাল মানের ফলের গাছের চারা নিতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় না জেলার ফলচাষিদের মধ্যে। যার পিছনে সরকারি প্রকল্পের প্রচারের ব্যর্থতাকেই দুষছেন কর্তারা।
এ বার সেই সমস্যা কাটিয়ে জেলার ফলচাষিদের হাতে বিনামূল্যে চারা দিতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে জেলা উদ্যানপালন দফতর। চলতি মরসুমে ১০০ দিন প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৯২ হেক্টর জমিতে ফল চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে দফতর। যার জন্য ইতিমধ্যেই জেলার ১৯টি ব্লকেই চাষিদের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ফলচাষিদের বিনামূল্যে ফলের চারা বিলি করাও হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন ব্লকে ৫০ হেক্টর জমিতে চারা লাগানোর কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।
দফতর সূত্রের খবর, ‘জাতীয় উদ্যান পালন মিশনে’র উদ্যোগে ২০০৬ সাল থেকেই জেলায় এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। গত বছর জেলায় ৫৭০ হেক্টর জমিতে ফলের চারা লাগানো হয়েছিল। তার মধ্যে কিছু চারা নষ্ট হয়ে গেলেও বেঁচে থাকা গাছের সংখ্যা অনেকটাই বলে দাবি দফতরের। দফতরের জেলা উপ-অধিকর্তা কমলেন্দু সীট জানান, চলতি আর্থিক বর্ষে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ প্রভৃতির মধ্যে (ওই সব জেলাতেই ফলের চাষ বেশি হয়) বীরভূম জেলাতেই সব চেয়ে বেশি জমিতে ফলের চারা বিলির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছ। আম, পেয়ারা, লেবু, কলা ও পেঁপে— এই ছ’ ধরনের ফলের চারা চাষিদের প্রয়োজন মতো সরবরাহ করা হবে। বোলপুর মহকুমায় ১৮৯ হেক্টর, সিউড়ি মহকুমায় ২০৮ হেক্টর এবং রামপুরহাট মহকুমায় ১৯৫ হেক্টর মিলিয়ে এ বার মোট ৫৯২ হেক্টর জমিতে ফল চাষ হবে। অন্যান্য বছর আবেদন করলে উদ্যানপালন দফতর চারা গাছ বিলি করত। এ বছর ফলচাষিরা যাতে আরও বেশি করে চারা লাগাতে পারেন, তার জন্য চাষিদের ব্লক স্তর থেকেই আবেদনপত্র জমা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কমলেন্দু জানান, ওই প্রকল্পে প্রথম বছর চাষিদের গাছের চারা জোগান দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সার, সেচ ও গাছের সুরক্ষা বাবদ খরচ দেওয়া হয়। দফতরের রামপুরহাট মহকুমা সহ-অধিকর্তা মিলন বেসরা বলেন, ‘‘এই মহকুমায় ফলের গাছ লাগানোর উপযুক্ত পরিবেশ আছে। অথচ এখানকার ফল চাষিদের একটা অংশ বাজার থেকে চড়া দামে নিম্নমানের চারা কিনছেন। এ ব্যাপারে চাষিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে চারা বিলি করা শুরু হয়েছে।’’