Khudiram Tudu

মাওবাদী সংঘর্ষের ক্ষত বয়ে বেড়ানো বাগডুবির ছেলে আজ রাজ্যের মন্ত্রী! ক্ষুদিরামকে নিয়ে প্রত্যাশা বিরোধীদেরও

২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল বাগডুবি। ১৫ ডিসেম্বর শীতের শীতের রাতে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে ডেরা বাঁধা মাওবাদীরা নেমে এসেছিলেন বাগডুবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। সিআরপিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দু’পক্ষের তিন জনের। সেই গ্রামের ছেলে আজ মন্ত্রী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১৯:১৩
Share:

রাজ্যের নতুন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। —নিজস্ব চিত্র।

পাহাড় আর জঙ্গল ঘেরা বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম বাগডুবি। একদা মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের এই অংশেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা রাজ্যের নতুন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় তিনি সদস্য হয়েছেন, এই খবর ছড়াতেই উন্মাদনা গোটা গ্রামে। মন্ত্রীর বাড়ি দেখতে ছুটছেন আশপাশের মানুষজন। সেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাঝে অনেক প্রত্যাশাও আছে। তবে গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, তাঁদের দাবিদাওয়া ঠিকই আদায় করে আনবেন পাড়ার ছেলে।

Advertisement

২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল ক্ষুদিরামদের গ্রাম বাগডুবি। ১৫ ডিসেম্বর শীতের রাতে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে ডেরা বাঁধা মাওবাদীরা নেমে এসেছিলেন বাগডুবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। গোপন বৈঠক হয় তাঁদের। অভিযোগ, সেখানে জোর করে সেখানে হাজির করানো হয় গ্রামবাসীদের একাংশকে। খবর পান সেরেংসোকড়া গ্রামে শিবির করে থাকা সিআরপিএফ জওয়ানেরা। সেই রাতেই তাঁরা হানা দেন বাগডুবি গ্রামে। শুরু হয় গুলির লড়াই। অকুস্থলে নিহত হন দুই মাওবাদী। আবার তাঁদের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান সিআরপিএফের জওয়ান বিনোদ রাই।

সেই বাগডুবির ছেলে ক্ষুদিরাম। পড়াশোনার শুরু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার পর বারিকুল হাই স্কুল। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে ক্ষুদিরাম ভর্তি হয়েছিলেন শালডিহা কলেজে। স্নাতক হওয়ার কিছু দিন পর শিক্ষকতার চাকরি পান বর্ধমান বাণীপীঠ হাই স্কুলে। প্রত্যক্ষ রাজনীতি জীবনের শুরু কর্মজীবনেই।

Advertisement

শিক্ষকতার পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হন ক্ষুদিরাম। ২০১৬, তার পর ২০২১ সাল, পর পর দু’বার তাঁকেই রানিবাঁধ বিধানসভা থেকে প্রার্থী করে বিজেপি। দু’বারই হেরেছেন পদ্মের শিক্ষক-প্রার্থী। কিন্তু ’২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি-ই বিজেপির প্রার্থী হন। তৃতীয় বার জয় পান ক্ষুদিরাম। ৫২ হাজার ২৫৯ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাকে পরাজিত করেছেন বিজেপির ক্ষুদিরাম। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন বাঁকুড়ার ছেলে ক্ষুদিরামও।

দুপুরে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে ক্ষুদিরামকে যখন শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন রাজ্যপাল, তখন গোটা বাগডুবি জুড়ে উচ্ছ্বাসের ছবি। রানিবাঁধের আনাচে-কানাচে শুরু হয়ে যায় আলোচনা। ক্ষুদিরামের এক আত্মীয়া ঊর্মিলা সোরেন টুডুর কথায়, ‘‘আমার তুতো শ্বশুর মন্ত্রী হয়েছেন! এই খবর শোনার পর থেকে সকলেই ভীষণ উত্তেজিত।’’ মন্ত্রী শ্বশুরমশাইয়ের কাছে দাবিও রয়েছে ঊর্মিলার। তিনি বলেন, ‘‘এ বার বাড়িতে এলেই ওঁকে গ্রামের রাস্তা ঠিক করে দিতে আবেদন করব। পানীয় জলেরও কষ্ট এখানে। ভাল চিকিৎসা পরিষেবা নেই। সে নিয়েও কথা বলব।’’

মন্ত্রীর প্রতিবেশী সুরাতন হেমব্রম বলেন, ‘‘ক্ষুদিরাম টুডু আমাদের গ্রামের ছেলে। প্রত্যেকের সঙ্গে ওঁর নিবিড় যোগাযোগ। উনি সব সমস্যার কথাই জানেন। আশা করি, বলার আগে ওই কাজগুলো করবেন। আমাদের আশা, গোটা জঙ্গলমহলের সমস্যা মেটানোর ব্যপারে উদ্যোগী হবেন।’’

ক্ষুদিরামের মন্ত্রী হওয়া নিয়ে বাম আমলের মন্ত্রী তথা সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রমের মন্তব্য, ‘‘আমি আর ক্ষুদিরাম টুডু একই বিধানসভার মানুষ। সামাজিক ভাবে তাঁর সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক। উনি এখন রাজ্যের মন্ত্রী। আশা করি, জঙ্গলমহলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ করবেন।’’ তৃণমূলের সদ্য বিদায়ী মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, ‘‘আমি যে বিধানসভা থেকে জিতে মন্ত্রী হয়েছিলাম, সেই একই বিধানসভা থেকে জিতে ক্ষুদিরাম টুডুও মন্ত্রী হলেন। আমি খুব খুশি হয়েছি।’’ তৃণমূলের জ্যোৎস্নারও আশা, বিজেপির মন্ত্রী ক্ষুদিরাম জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ করবেন

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement