TMC: ভয় পাই না, ত্রিপুরা থেকেই জানালেন অভিজিৎ

আগামী ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরায় ১৩টি পুরসভা এবং ছ’টি নগর পঞ্চায়েতের ভোট। মোট ৩২৪টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হবে।

Advertisement

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২১ ০৫:৫৯
Share:

অভিজিৎ সিংহ। নিজস্ব চিত্র।

সামনেই নির্বাচন ত্রিপুরায়। এ রাজ্য থেকে তৃণমূল নেতারা উপস্থিত হয়েছেন ত্রিপুরায়। তার মধ্যে লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহও আছেন। রবিবার আনন্দবাজারকে ফোনে তিনি জানালেন, ত্রিপুরায় পৌঁছনোর পর থেকেই বিজেপির কর্মীরা তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন। অথচ এই ঘটনায় বিজেপির কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে তাঁদের থাকতে দেওয়ার জন্য শনিবার ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়ায় যে হোটেলে মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে বিজেপি ‘হুমকি’ দিয়েছিল তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় থানার বাইরে অবস্থান বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিকদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি দিয়েছি। হুমকিতে ভয় পাই না। যে হোটেলে আছি, পুর নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকব।’’

Advertisement

আগামী ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরায় ১৩টি পুরসভা এবং ছ’টি নগর পঞ্চায়েতের ভোট। মোট ৩২৪টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হবে। এই প্রথমবার ত্রিপুরার পুরভোটে অংশ নিয়েছে বাংলার শাসক দল। সেই জন্য দলের নেতাদের অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্ব দিয়ে ত্রিপুরায় পাঠিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ রাজ্যের পাঁচ বিধায়ক-সহ দায়িত্ব পাওয়া ন’জন নেতা সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। সেই তালিকায় লাভপুর ও বর্ধমান দক্ষিণের দুই তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ ও খোকন দাসও আছেন। তাঁদের দায়িত্বে রয়েছে খোয়াই জেলার তেলিয়াপাড়া পুর নির্বাচনের ১৫টি আসন। এখানে প্রতিটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল।

কিন্তু প্রথম থেকেই ত্রিপুরায় যাওয়া দলীয় নেতা-নেত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছে ওই রাজ্যের শাসকদল বিজেপি বলে অভিযোগ তুলছে তৃণমূল। শেষ পর্যন্ত বিপ্লব দেবের সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। তারপরই গত বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত রায় দেয় সমস্ত রাজনৈতিক দল যাতে নির্বিঘ্নে পুরভোটে প্রচার করতে পারে এবং নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে।

Advertisement

কিন্তু তারপরও বিরোধী দলকে প্রচার চালাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল শনিবার। তৃণমূল সূত্রে খবর, অভিজিৎবাবুরা শনিবার বিকেলে তেলিয়ামুড়া পুরসভার দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। সেই সময়ে বিজেপির লোকজন ওই হোটেলে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। অভিজিৎবাবু বলেন, ‘‘জনা পনেরো কুড়ি বিজেপি কর্মী বাইকে এসে হোটেল মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেন আমরা এখানে থাকলে হোটেল জ্বালিয়ে দেবেন বলে।’’

এই ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন মিছিল করে তৃণমূল। অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি খোকন ও অভিজিৎবাবুরা দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্থানীয় তেলিয়ামুড়া থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে সেখানে কেন সর্বভারতীয় একটি রাজনৈতিক দলকে প্রচারে বাধা দেওয়া হবে। কেন তাঁরা সেখানে থাকতে পারবেন না। রাত পর্যন্ত অবস্থানের পর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয় পুলিশ।

লাভপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘এখনও বাইকবাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারমধ্যেই প্রচার করছি। ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বে না তৃণমূল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement