—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোট দিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরলেও, তবে ফিরছেন না অনেকে। কেউ আবার সমাজমাধ্যমে ভোটের মুখে কর্মস্থলে ফেরার ট্রেনের টিকিটের ছবি দিয়ে রাজ্যে কাজ পাওয়ার হতাশার কথা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলা থেকে ভিন্ রাজ্যে কাজে যাওয়ার প্রবণতা আগেও ছিল। তবে একশো দিনের কাজের সুবাদে অনেকে ফিরেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সে কাজও বন্ধ হওয়ায় ফের চেন্নাই, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত, মুম্বই, দিল্লি, রাজস্থান প্রভৃতি রাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে গিয়েছেন অনেকে। বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ নির্যাতনের শিকারও কেউ কেউ যেমন হয়েছেন, তেমনই রহস্যজনক ভাবে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।
এ বার ভোটের প্রচারে তাই রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা বিরোধীরা প্রচারে আনছেন। শাসকদল পাল্টা বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষিদের কেন নির্যাতন করা হচ্ছে, সে নিয়ে সরব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন।রাজ্য শ্রম দফতর পরিযায়ীদের ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরার খরচ হিসেবে শ্রমশ্রী প্রকল্পে পাঁচ হাজার টাকা দেবে বলে জানায়। ফেরার পরে তাঁরা আবেদন করলে, কর্মসাথী প্রকল্পে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে এক বছর পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে।
কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই জানান, ভিন্ রাজ্যে তাঁরা এ রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান। তাই অনেকেই রাজ্য সরকারের প্রকল্পে আগ্রহ দেখাননি।
ইঁদপুরের হিরাশোলের যুবক সুমন্ত তন্তুবায় দিল্লির জুতো কারখানার শ্রমিক। সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছেন। সুমন্তর দাবি, ‘‘বিশেষ কাজে বাড়ি ফেরা। তবে এসেছি যখন ভোট দিয়েই ফিরব। শুধু ভোট দিতে খরচ করে আসতাম না।’’ একই সঙ্গে আক্ষেপ, ‘‘এলাকায় কাজ থাকলে বাইরে যেতে হত না।’’ তবে ভোটে বাড়ি ফিরছেন না ওই গ্রামেরই যুবক তন্ময় তন্তুবায়-সহ কয়েকজন। তন্ময় অন্ধ্রপ্রদেশের ইলুরুতে মাছের ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে কাজ করেন। তন্ময় বলেন, ‘‘ভোট দিতে গেলে আমাদের পরিয়ায়ী তকমা ঘুচবে কি? আসা-যাওয়ার খরচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। আগে এলাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। তারপরে ভোটের কথা ভাবব।’’
আট বছর ধরে গুজরাতের সুরাতে সুতো তৈরির কারখানায় কাজ করছেন ইঁদপুরের ধানসাতড়া গ্রামের যুবক শ্রীকান্ত পাত্র। গ্রামে হরিনাম সঙ্কীর্তন উপলক্ষে সম্প্রতি তিনি ফিরেছিলেন। ভোটের জন্য অপেক্ষা না করে রবিবার তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রেনের টিকিটের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, ‘ভোট দিয়ে লাভ নেই, নিজ রাজ্যে কাজ নেই, গন্তব্য ভিন্ রাজ্য’। শ্রীকান্তের দাবি, ‘‘এলাকায় কাজ নেই। রোজগার না হলে সংসার চলবে না। তাই কাজ কামাই করে ভোট দেওয়ার জন্য থেকে গিয়ে কোনও লাভ নেই। সরকারি ভাতার টাকায় পেট ভরবে না।’’
হায়দরাবাদে ওযুধের কোম্পানিতে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেন সিমলাপালের আমবাকড়া গ্রামের যুবক মণিকাঞ্চন মহান্তি, সারেঙ্গার আঁধারিয়ার দেবাশিস মহান্তিরা। দেবাশিস বলেন, ‘‘কিছু দিন আগেই বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরেছি। ভোট দিতে তাই যাওয়া হবে না।’’ মণিকাঞ্চনের প্রশ্ন, ‘‘ভোট দিতে গেলে আমাদের ভাগ্য ফিরবে কী!’’ তালড্যাংরার পাঁচমুড়া, রানিবাঁধের নাচনার অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরাও ভোট দিতে ফিরছেন না বলে জানিয়েছেন।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘এলাকার যুবকদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে বাইরে যেতে বাধ্য করেছে এই সরকার। আমরা ক্ষমতায় এলেই রাজ্যে বহু কর্মসংস্থান হবে।তাই রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের সবাইকে আহ্বান করছি।’’ পাল্টা তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, ‘‘অনেক পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন। তবে কাজের চাপ থাকলে মানুষকে কর্মস্থলে ফিরে যেতেই হবে। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে বাইরে থাকা ভোটারদের সঙ্গেযোগাযোগ করা হচ্ছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে