ভাল ফল, তবু চিন্তা পিছু ছাড়ে কই

একই স্কুলের দুই ছাত্রী মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশের বেশি পেয়েছিল। এ বারে উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে পাশ করল দুই বন্ধু!

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০১৬ ০১:৪০
Share:

চন্দ্রিমা চক্রবর্তী ( বাঁ দিকে), মীনাক্ষী পাল।— নিজস্ব চিত্র

একই স্কুলের দুই ছাত্রী মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশের বেশি পেয়েছিল। এ বারে উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে পাশ করল দুই বন্ধু!

Advertisement

দু’জনেরই স্বপ্ন বড় হয়ে কলেজে পড়ানো। প্রথম জন মীনাক্ষী পাল। দ্বিতীয় জন চন্দ্রিমা চক্রবর্তী। দু’জনেই আমোদপুর জয়দুর্গা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন‌ দেখা থমকে গিয়েছে অর্থের চিন্তায়। মীনাক্ষীর বাবা সৃষ্টিধর পাল অসুস্থ, এমএসকেতে পড়ান। আর চন্দ্রিমার বাবা একটি ঠিকাদার সংস্থায় নৈশ প্রহরীর কাজ করেন।

মাধ্যমিকে ৫৫৩ (৭৯ শতাংশ) পেয়েছিল মীনাক্ষী। এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে সে পেয়েছে ৪৬৭। ইংরেজিতে ৯৪, বাংলা ৯১, ভূগোলে ৯২, সংস্কৃতে ৯৪, ফিলোজফি ৯৬ (৯৩.৪ শতাংশ)। এ ছাড়া চতুর্থ বিষয় ইতিহাসে পেয়েছে ৭১। অন্য দিকে মাধ্যমিকে ৪৯১ পাওয়া চন্দ্রিমা উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছে ৪৫২। ইংরেজিতে ৮০, বাংলায় ৯০, ভূগোলে ৮৮, সংস্কৃতে ৮৮, ফিলোজফিতে ৯৬। চতুর্থ বিষয় ইতিহাসে পেয়েছে ৯০।

Advertisement

দু’জনেরই ইচ্ছা বিশ্বভারতীতে ইংরেজি নিয়ে পড়ার। কিন্তু বিশ্বভারতীতে ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করতে গেলে খরচ অনেক। তা যোগাবে কে?

এখন সেই চিন্তাতেই চোখে ঘুম নেই দুই বান্ধবীর।

Advertisement

অভাবের সংসারে বড় হওয়া দু’জনেই যথেষ্ট পরিণত। মীনাক্ষীর কথায়, ‘‘বাবা শিক্ষক। যা মাইনে পান, তা থেকে বাবার চিকিৎসা ও সংসার চালাতেই হিমসিম খান বাবা মা। তার মধ্যেও বছর দুয়েক আগে দিদির বিয়ে দিয়েছেন। আমাকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়েছেন। খুব ইচ্ছা বিশ্বভারতী থেকে ইংরাজি নিয়ে পড়ার। পরিবারের যা আর্থিক অবস্থা তাতে কলেজে পড়ানোর স্বপ্ন দেখাটা আমার মানায় না। যদি কেউ বা কোনও সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে হয়তো আমার স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে।’’

একই কথা বলছেন চন্দ্রিমা। ‘‘বাবা ঠিকাদার সংস্থায় নৈশ প্রহরীর কাজ করেন। বছর দুয়েক আগে দিদির বিয়ে দিয়েছেন। যা পান তা থেকে সংসার চালানো লোক-লৌকিকতা, আমার পড়াশুনা, তারপর অসুখ-বিশুখ তো আছেই। মা বাবার উপর যে কি চাপ হয় তা আমি ভালই বুঝি। শত ইচ্ছা বা স্বপ্ন থাক না কেন, মা-বাবাকে এ ব্যাপারে কোনও ভাবেই চাপ দিতে পারব না।’’ দু’জনের এই সাফল্যের পিছনে মা বাবা দিদিদের উৎসাহের পাশাপাশি তাদের গৃহ শিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষিকাদেরও যথেষ্ট ভূমিকা আছে। দু’জনেরই গৃহ শিক্ষক ছিলেন শুভময় মণ্ডল, বেনুকর ভান্ডারী, পুর্ণেন্দু সরকার, তাপস মণ্ডল, আশিস চট্টোপাধ্যায়। এঁরা সকলেই কার্যত বিনা পারিশ্রমিকে দু’জনকে পড়িয়েছেন। গৃহ শিক্ষকের পাশাপাশি দু’জনেই স্কুলের তনুশ্রী বক্সী, মধুশ্রী চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জু হাজরা, উন্নতি মণ্ডল-সহ সকল শিক্ষিকারা যে সহানুভূতির চোখে দেখতেন। সে কথা ভোলেনি দু’জন।

মীনাক্ষীর বাবা সৃষ্টিধরবাবু ও চন্দ্রিমার বাবা তাপসবাবু কথায়, যদি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্য করেন, তাঁর কাছে তাঁরা সারাজীবন ঋণী থাকবেন। প্রধান শিক্ষিকা চন্দনা সাহা সর্দার চৌধুরী বলেন, ‘‘ওদের পড়তে যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমরাও খুশি হব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement