—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কিছু দিন আগেও ছোটখাটো পথসভায় উপচে পড়ত ভিড়। সেই তৃণমূলই এখন প্রতিবাদ মিছিলের মতো দলের ঘোষিত কর্মসূচি আয়োজনে কর্মীদের পথে নামাতে পারছে না। দল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজ্যের সব ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল করতে জেলা ও ব্লক নেতৃত্বদের নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পরে এটাই ছিল দলের প্রথম ঘোষিত কর্মসূচি। তবে বাঁকুড়া জেলার কোথাও তা সংগঠিত করা যায়নি।
ঘটনা হল, জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু দলীয় অফিস দখল, কিছু নেতাদের বাড়ির সামনে জটলা করে গোলমাল পাকানো ছাড়া বড় কোনও রাজনৈতিক হানাহানির অভিযোগ এখনও সামনে আসেনি। তবে নানা আশঙ্কায় তৃণমূলের কিছু দাপুটে নেতা ঘরছাড়া হয়েছেন বা বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন না। জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগও করা যাচ্ছে না বলে দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশ অভিযোগ তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের নির্দেশ মেনে ব্লকে ব্লকে মিছিল সংগঠিত করা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
দলের শালতোড়া ব্লক সভাপতি সন্তোষ মণ্ডল জানান, গণনার পর দিনই তাঁর দলীয় কার্যালয়ের চড়াও হয়ে বাতানুকূল যন্ত্র, আলমারি, চেয়ার-টেবিল তুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল নেতারাও ঘরছাড়া। তিনি বলেন, “একাই কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের সাহস জোগাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে কেউই পথে নেমে আন্দোলন করার মতো অবস্থায় নেই।” একই দাবি ওন্দা ব্লক তৃণমূলের আহ্বায়ক উত্তমকুমার বিটের। তিনি বলেন, “দল ক্ষমতায় থাকাকালীন যাঁরা না ডাকতেও দলীয় অফিসে ভিড় করতেন, এখন তাঁদের ফোন করলেও পাচ্ছি না। পথে নেমে আন্দোলন করার মানসিকতা কর্মীদের মধ্যে গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে।” বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি কালীদাস মুখোপাধ্যায়ও জানান, রাজ্যে দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় ভেঙে পড়েছেন নিচুতলার কর্মীরা। এখনই কর্মসূচিতে নামার মতো ইচ্ছা কারও মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
ফোনে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্তের সঙ্গে। তবে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর আশা, “ভোট গণনার দিন থেকেই কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। দলীয় অফিস দখল হচ্ছে। কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছি, মানসিক ভাবে চাঙ্গাও করা হচ্ছে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই দলের কর্মকাণ্ড ফের পুরোদমে শুরু হবে।”
যদিও বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জেলার স্বাভাবিকই রয়েছে। আসলে তৃণমূল ধান্দাবাজদের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল। তাই এখন আর ওদের হয়ে পথে নামার কেউ নেই।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে