বিষ্ণুপুর হাসপাতালের এই ছবি কি বদলাবে?—নিজস্ব চিত্র।
নতুন তকমা লেগেছে। কিন্তু বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে জঞ্জাল জমে থাকার চিত্র বিশেষ পাল্টাল না।
শল্য বিভাগ ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র এবং হাসপাতালের গাড়ি চালকদের রাতে থাকার বিশ্রামাগারের মধ্যবর্তী জায়গাটি আবর্জনাই ভরে উঠেছে। সেই আবর্জনা উপচে হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তায় এসে পড়ছে। জোরে হাওয়া দিলে স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরও নোংরা চলে আসছে বলে অভিযোগ। চিকিৎসক থেকে রোগীর পরিজনদের এই নোংরার মধ্যে দিয়েই হাসপাতালে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বিষ্ণুপুরবাসীর।
কয়েকদিন আগে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন সনাতন ঘোষ। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক নেতারা আসেন। লোক দেখানো বেলচা ধরে সাফাই অভিযান চালান। কিন্তু তার কোনও ধারাবাহিকতা থাকে না। আবর্জনা জমতে জমতে আস্তাকুড় হয়ে ওঠে এলাকা। কিন্তু সাফাই নিয়মিত হয় না। কে বলবে, এটা জেলা হাসপাতাল?’’
পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানার একরা গামের গর্ভবতী নাজিমা বিবি তাঁর স্বামী আনিল খানের সঙ্গে স্বাস্থ্যপরীক্ষা কেন্দ্রে এসে আবর্জনার দুর্গন্ধে বমিই করে ফেললেন। কিছুটা সামনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এটা গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ?’’ একই ক্ষোভের কথা শোনালেন বিষ্ণুপুর থানার দ্বাদশবাড়ির বাসিন্দা রিনা রায়ও। হিংজুড়ি গ্রাম থেকে আসা আজিদা বিবি দেখালেন, চারিদিকে ব্যবহার করা ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ, সুঁচ, তুলো, গজ পড়ে রয়েছে। এ সবের কাছাকাছি থাকলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। হাসপাতালের শল্য বিভাগে ভর্তি থাকা গুমুট গ্রামের ছাত্র রাজীব দে, হিংজুড়ি গ্রামের স্বপন কর্মকার বলেন, ‘‘রাতে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের আলোতে চারিদিক ভেসে যায়। পরিষেবাও ঠিক ঠাক আছে। কিন্তু দুর্গন্ধে টেকা দায়।’’
বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের সুপার পৃথীশ আকুলি বলেন, ‘‘আমাদের কোনও স্থায়ী ভ্যাট ছিল না। ভ্যাট তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা আর থাকবে না।’’ তাঁর অভিযোগ, নোংরা আবর্জনা নিয়মিত তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরসভাকে বহু বার জানানো হয়েছে। কিন্তু পুরসভা থেকে সাফাই কর্মীদের পাঠানো হয় না। রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য তথা পুরসভার কাউন্সিলর দিবেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্বীকার করেন, ‘‘সত্যি কথা বলতে কি জায়গাটা নরক হয়ে উঠেছে। নিয়মিত সাফাইয়ের বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’
বিষ্ণুপুরের উপপুরপ্রধান বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘‘হাসপাতালের এমন অবস্থার কথা আমাদের কেউ জানায়নি। আবর্জনা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’’