Lavpur Meat Seller Beaten

জেলার মাংস ব্যবসায়ী প্রহৃত হাওড়ায়, তাতছে রাজনীতি

হাওড়ার ডোমজুড়ের জগদীশপুরে মাংসের ব্যবসা করেন টুটুল হোসেন। তাঁর বাড়ি লাভপুর বিধানসভার অন্তর্গত বিপ্রটিকুরী অঞ্চলের মান্দারী গ্রামে।

দেবাশিস পাল

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

হাওড়ার ঘটনার রেশ বীরভূমেও। ডোমজুড়ে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে যে মাংসের বিক্রেতাকে রোহিঙ্গা, জেহাদি বলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, আক্রান্ত সেই বিক্রেতার বাড়ি লাভপুরে। ভোটের মুখে এই ঘটনায় বিজেপিকে আমিষ বিরোধী বলে নিশানা করেছে তৃণমূল। সরব হয়েছেন আক্রান্ত বিক্রেতার পরিজনেরা। বিজেপি পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

হাওড়ার ডোমজুড়ের জগদীশপুরে মাংসের ব্যবসা করেন টুটুল হোসেন। তাঁর বাড়ি লাভপুর বিধানসভার অন্তর্গত বিপ্রটিকুরী অঞ্চলের মান্দারী গ্রামে। তাঁকে ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা ‘রোহিঙ্গা’ ও ‘জেহাদি’ বলে তাঁর মাংসের দোকান সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। রবিবার সকালে টুটুলের গ্রাম মান্দারিতে গিয়ে দেখা গেল অনেকেই মোবাইলে সেই ভিডিয়ো দেখছেন। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই নাবালক ছেলে, মা। একই বাড়িতে আলাদা আলাদা ভাবে বসবাস করেন পাঁচ ভাই। টুটুলের মা হাসনাবানু বিবি, বড় বৌদি রাবিনা বিবি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমরা সবাই চিন্তায় রয়েছি। ওরা পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই বাইরে কাজ করে।’’

টুটুল জানান, মাস পাঁচেক হল ডোমজুড়ে মুরগির মাংসের ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। ফোনে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বললেন, ‘‘আমি লাভপুর বিধানসভা এলাকার নিয়মিত ভোটার। তা হলে আমাকে কেন রোহিঙ্গা জিহাদি বলা হল? রীতিমতো হেনস্থা করেছেন বিজেপি প্রার্থী।’’ তাঁর গ্রামের বহু বাসিন্দাই অন্যত্র কাজ করেন। তেমনই এক যুবক শেখ পাপন বললেন, ‘‘এই রকম বাধা-বিপত্তি এলে কাজ করা মুশকিল।’’ টুটুল হোসেনের স্ত্রী রবিউন্নেসা বিবি বলেন, ‘‘আগে মহারাষ্ট্রের নাসিকে থাকতেন। অত দূরে যাবেন না বলে রাজ্যেই ব্যবসা শুরু করেছেন। সেখানেও যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে কোথায় যাব?’’

গত বছর আগস্ট মাসে ইলামবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গরু পাচারের অভিযোগ তুলে শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটে দুর্গাপুরে। এ বার লাভপুরের বাসিন্দাকে হেনস্থার ঘটনার পরে বিজেপিকে আমিষ বিরোধী বলে নিশানা করেছে শাসক দল তৃণমূল। বিজেপি এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে বলেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।লাভপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ বলেন, ‘‘কে কী পরবে, কে কী খাবে, কে কী করবে, সেটা বিজেপি ঠিক করে দেবে, এটা হতে পারে না। লাভপুরবাসীকে বলব, আগে থেকে সাবধান হয়ে যান।আগামী নির্বাচনে এর জবাব দিন।’’ লাভপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘যারা এ সব করছে মানুষ তাদের বর্জন করবে।’’

বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল পাল্টা দাবি করেছেন, যে বাড়ির সামনে মুরগির দোকান বসানো হয়েছিল সেই বাড়িটি বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরার। শ্যামাপদর দাবি, ‘‘এক সময় ওই বাড়িটিতে তাণ্ডব চালিয়ে জবরদখল করে রেখেছিল তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। আইনি প্রক্রিয়া মেনে তিনি বাড়ি দখল নিতে গিয়ে বাড়ির সামনে থেকে অস্থায়ী দোকানটি সরিয়ে দিয়েছেন। এতে অন্যায় কিছু দেখছি না। তৃণমূলের লোকজন টাকার চুক্তি করে ওই ব্যবসায়ীকে ওখানে বসিয়েছিল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন