— প্রতীকী চিত্র।
এক দিকে, দেশের আদালতে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মামলার তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে, বাংলাদেশের ভোট এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন। এর মাঝে পড়ে কার্যত দিশাহারা বাংলাদেশে আটকে থাকা বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিক সুইটি বিবি, তাঁর দুই নাবালক সন্তান ও দেশে ফিরে আসা সুনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ-সহ চার জন।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শিশুপুত্রকে নিয়ে কয়েক মাস আগে বীরভূমের পাইকরের বাড়িতে ফেরেন সুনালী। তাঁর ছেলে হয়েছে। কিন্তু ছেলের মুখ এখনও দেখতে পাননি দানিশ। তাঁদের চার জনকে বাংলাদেশ থেকে ফেরানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে চলতি মাসের ১৮ তারিখ। আপাতত সেই দিকে তাকিয়ে ওই চার জনের পরিবার।
বাংলাদেশি সন্দেহে গত বছর জুনে সুনালী, সুইটিদের সে দেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। তাঁদের ফেরাতে আইনি লড়াই চলছে। ওই শ্রমিকদের পরিবার সূত্রে খবর, বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বাড়িতে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে আছেন সুইটিরা। সুইটির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর মামাতো ভাই আমির খান বলেন, “দিদির সঙ্গে তিন দিন আগে কথা হয়েছে। দেশে কখন ফিরতে পারবে, সেই উদ্বেগে কান্নাকাটি করছে। ১৯৫২ সালের জমির দলিল-সহ সব দেওয়া হয়েছে। তার পরেও কেন দিদিদের এ ভাবে আটকে থাকতে হচ্ছে জানি না!” স্বামীর অপেক্ষায় থাকা সুনালী বললেন, “আদালতে তারিখের পরে তারিখ পড়ছে। সদ্যোজাত সন্তানের মুখও তার বাবা দেখেনি। সামনে ইদ আসছে। খুব চিন্তায় আছি।”
বাংলাদেশে যে বাসিন্দার সাহায্যে একটি বাড়িতে দানিশ ও সুইটিরা আছেন, তাঁর মাধ্যমে সপ্তাহে এক-দু’দিন যোগাযোগ করতে পারছে এ দেশে থাকা পরিবার। বাংলাদেশ পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজরদারি রয়েছে। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশের কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। সামনেই বাংলাদেশে ভোট। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। ফলে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে, আশঙ্কা সুইটিদের পরিজনদের।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপড়েনে এখন ভিসাও মিলছে না, জানান বাংলাদেশে সুনালী-সুইটিদের সাহায্য করতে যাওয়া পাইকরের মফিজুল শেখ। তিনি ভিসা-সমস্যায় এখন বাংলাদেশে যেতে পারছেন না। বললেন, “সুইটিদের সঙ্গে কথা বলতে ভয় হচ্ছে। কবে দেশে ফিরতে পারবে প্রশ্ন করলে কী উত্তর দেব?” পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, “ওঁদের দেশে ফেরাতে আইনি লড়াই চলবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে