Boro Rice Field Destroyed

বৃষ্টি-পোকার মারে বোরো ধানে ক্ষতি

গত বছর বর্ষার সময় আমন ধানে টুংরো রোগে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল নানুর ব্লকে। এ বার বোরো ধান চাষের ক্ষেত্রেও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না বলে দাবি চাষিদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ০১:০০
Share:

মাজরা পোকার আক্রমণে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের শীষ। মহম্মদবাজারের শালদহা মৌজায়। ছবি: পাপাই বাগদি

জেলায় চলছে বোরো ধান ঘরে তোলার কাজ। নানুর ব্লকের কোথাও মেশিনের সাহায্যে, কোথাও হাতে কাটা হচ্ছে ধান। এরই মাঝে বুধবারের ঝড়বৃষ্টির ফলে সমস্যায় পড়েছেন অনেক ধানচাষি। জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ধানের শীষ শুকিয়ে ফলন কমেছে। তার উপরে অন্যান্য বছরের তুলনায় ধানের দাম কম। সব মিলিয়ে বোরো ধান চাষ করে ক্ষতির মুখে চাষিরা। অন্য দিকে, মাজরা পোকার উপদ্রবে ক্ষতিগ্রস্ত মহম্মদবাজার ব্লকের ধানচাষিদের একাংশ।

গত বছর বর্ষার সময় আমন ধানে টুংরো রোগে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল নানুর ব্লকে। এ বার বোরো ধান চাষের ক্ষেত্রেও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না বলে দাবি চাষিদের। নানুরের চারকল গ্রামের মাঠ জুড়ে হয়েছে বোরো ধানের চাষ। অনিল কুশমেটে, বাপটু মোদক, খোকন রায়চৌধুরীরা জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি থেকে এখন ধানের শীষ মরে শুকিয়ে যাওয়ায় ফলন কমে দাঁড়িয়েছে অর্ধেকে। তার উপরে দাম কম হওয়ার জন্য চাষের খরচ উঠবে না। একই সমস্যা নানুরের প্রায় সর্বত্রই।

কীর্ণাহার থানা এলাকার গোমাই-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষিরা গরু-মোষ পালন করেন। খড়ের প্রয়োজন মেটাতে ধান হাতেই কাটেন চাষিরা। ইতিমধ্যেই অনেকেই ধান কেটেছেন। বুধবারের বৃষ্টিতে এই সমস্ত ধানে ক্ষতি হয়েছে সব থেকে বেশি। গোমাই গ্রামের নিবারণ ঘোষ, কাজল ঘোষ বলেন, ‘‘ধানের দাম ও চাহিদা কম। আগে আমন ধানের ভাল ফলন পাইনি। এখন বোরো ধানের এই অবস্থা। খুব চিন্তায় রয়েছি।"

ধানের শীষ মরে যাওয়া প্রসঙ্গে নানুরের সহ কৃষি অধিকর্তা সুব্রত সাহা জানান, বিভিন্ন কারণে এটা হতে পারে। তবে, সাধারণত ইউরিয়ার (নাইট্রোজেন) আধিক্যের জন্য এবং বোরন জিঙ্ক ও পটাশের অভাবেও হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ছত্রাক, কীটনাশক প্রয়োগ করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে শুরুতেই কৃষি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ওই কৃষি অধিকর্তা।

অন্য দিকে, মহম্মদবাজারের খড়িয়া, কুমোরপুর, কুলিয়া, ভূতুরা, ফুল্লাইপুর-সহ বিভিন্ন গ্রামে মাজরা পোকার আক্রমণে সমস্যায় পরেছেন এলাকার ধান চাষিরা। প্রতিটি ধান গাছের প্রধান শীষ কেটে দিচ্ছে পোকা। ধীরে ধীরে গাছ লাল হয়ে যাচ্ছে এবং পরে শুকিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, কোনও কোনও জমিতে এত সংখ্যক পোকার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে যে, পুরো জমির ধান গাছই নষ্ট করে দিচ্ছে। চাষি আশিস মণ্ডল, কৌশিক মণ্ডল, আশিস বাগদিরা বলেন, ‘‘ধান চাষের খরচ বেড়েছে। সারের দামও বেশি। কিন্তু, এই কয়েক দিনে যে ভাবে তাপমাত্রা বেড়েছে, তাতে কমবেশি প্রতিটি জমিতেই মাজরা পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে।দু-তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। আমরা চরম ক্ষতির মুখে।’’ মহম্মদবাজার ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা প্রিয়া ধাড়া জানান, চাষিদের প্রতিনিয়ত জমিতে ভাল ভাবে নজর রাখতে হবে।

বোরো ধানের ক্ষতির প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণের সম্ভাবনা কতটা, সে সম্পর্কে কৃষি দফতরের এক আধিকারিক জানান, বোরো ধান শস্যবিমার আওতায় থাকলেও, কিছু নিয়ম ও শর্ত থাকে। তাই এলাকা ও ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন