দুর্ঘটনার পরে গাছের ডাল কেটে সরাচ্ছেন স্থানীয়েরা। নিজস্ব চিত্র।
ঝড়ের পরের দিন গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হলেন চার জন বাইক আরোহী। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে বিষ্ণুপুরের পিয়ারডোবা রেলফটকে। আহতদের বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়েনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালড্যাংরা ব্লকের রাজপুর থেকে বাইকে কয়েকজন যাত্রী বিষ্ণুপুরের দিকে আসছিলেন। ট্রেন আসার আগে রেলফটক বন্ধ থাকায় তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। হাওড়াগামী পুরুলিয়া এক্সপ্রেস পার হওয়ার পরেই রেল ফটক তোলা হয়েছে। একে একে গাড়ি লাইন পারাপার করার সময়ে রাস্তার পাশে রেলের জায়গায় থাকা একটি বড় আমগাছের ডাল আচমকা ভেঙে পড়ে যাত্রীদের উপরে। তিনটি বাইকে থাকা চার জন আহত হন। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার বিকেলে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি হয় এলাকায়। সে কারণে গাছের ডাল দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়। ঘটনার সময়ে বাইকে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন পিয়ারডোবার বাসিন্দা রাজীব বাউরি। তিনি বলেন, “ট্রেনটা যেতেই সবে রেল ফটক খুলেছে। কয়েকজন ফটক পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রকাণ্ড ডাল কয়েকজনের উপরে পড়ল। আমি ফুট দশেক পিছনে ছিলাম বলে রক্ষা পেয়েছি।’’ তবে অন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রেলফটকে একটি ট্রাকও দাঁড়িয়েছিল। গাছের ডালটি প্রথমে সজোরে ট্রাকের উপরে পড়ে। তারপরে যাত্রীদের উপরে পড়েছে। সে কারণে আঘাত জোরালো নয়। রাস্তার ধারের পুরনো গাছগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
তবে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় রেল পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বিষ্ণুপুরের স্টেশন ম্যানেজার দীপককুমার পাল। তিনি বলেন, “রেললাইনের পাশে থাকা পুরনো গাছের অবস্থা রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দেখাশোনা করেন। এই গাছটির অবস্থা তাঁরা জানতেন কি না, খোঁজ নেব।’’
বিষ্ণুপুরের পাঞ্চেত বন বিভাগের বাঁকাদহ রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, “জঙ্গলের মধ্যে রাস্তার পাশে কোনও গাছ বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই। এটি রেলের জায়গায় হওয়ায় আমাদের নজরে নেই।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে