TMC

কেউ পা বাড়িয়ে কি, জেলায় জল্পনা  

শাসকদলের এক শীর্ষনেতার যদিও দাবি, বীরভূম নিয়ে এতটা চিন্তার কিছু নেই। কারণ বুথ স্তরে এখনও তেমন সংগঠন নেই বিজেপির।

Advertisement

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ ০১:২৫
Share:

প্রতীকী ছবি।

শুভেন্দু অধিকারীর বিধায়ক ও তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বীরভূমেও শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের শনিবারের মেদিনীপুর সফরে চমক থাকছে বলে বার্তা দিতে শুরু করেছে বিজেপি। রবিবার শাহের বোলপুর সফরেও কি তেমন কোনও চমক অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বীরভূমও। শুভেন্দুর সঙ্গে এই জেলার কোনও নেতাও কি যাবেন বিজেপি-তে, প্রশ্ন ঘুরছে জেলা তৃণমূলে।

Advertisement

এই জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছে বুধবার পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের মায়ের নিয়মভঙ্গের অনুষ্ঠান। কারণ, সেই সামাজিক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি (যিনি ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন)-সহ শাসকদলের একাধিক বিধায়ক ও নেতাদের উপস্থিতির মধ্যেই বীরভূমের শাসকদলের বেশ কিছু নেতারও নাম ভেসেছিল। যাঁরা নাকি সবুজ থেকে গেরুয়া নৌকায় উঠতে মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সেই তালিকায় বীরভূমের একাধিক বিধায়ক, দাপুটে নেতা থেকে জেলা পরিষদের সদস্য অনেকেই আছেন বলে জল্পনা। মুখে অবশ্য এ সব ‘রটনাকে’ তারা পাত্তা দিতে নারাজ।

Advertisement

বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ বলছেন, ‘‘দু-চারটে নাম আমাদের কানেও এসেছে। তবে তার কোনও ভিত্তি নেই। বীরভূমে আমাদের সংগঠন মজবুত।’’

তাঁর সংযোজন, ‘‘তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় এমনটা হবে, এটুকুই বলব, দু-এক জন নেতা গেলে কোনও সমস্যা নেই। বুথ স্তরের কর্মীরা যদি সরে যান তা হলে সেটা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়।’’

এ দিন তারাপীঠে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও দাবি করেছেন, নেতা চলে যাওয়াটা কোনও বিষয় নয়। কর্মীরা থাকলেই হবে।

দলবদলের চর্চায় থাকা জেলার এক বিধায়ক বলে দিচ্ছেন, ‘‘এ সব বিজেপির নোংরামি। দলের সৈনিক হিসাবে আমৃত্যু তৃণমূলেই থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’’ যা শুনে, জেলা বিজেপির এক শীর্ষ নেতার দাবি, শাসকদলের অনেকেই তাঁদের শিবিরে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একাধিক ‘ভারী’ নামও তাতে রয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘তৃণমূলে ধস নামতে শুরু করেছে। আর একবার ধস শুরু হলে বীরভূমও অক্ষত থাকবে না, এটা মিলিয়ে নেবেন। শুধু কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তবে পুলিশ যাতে মিথ্যা মামলায় না-ফাঁসায়, তাই এখন সব চুপ করে আছেন।’’

গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বীরভূমে ‘বিশেষ নজর’ রয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের। কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মতো সর্বভারতীয় নেতা তো আসছেনই, বিধানসভা নির্বাচনের ঢের আগে খোদ অমিত শাহের বীরভূম সফরেরও কোথাও সেই বার্তা লুকিয়ে বলেই মনে করছেন রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

শাসকদলের এক শীর্ষনেতার যদিও দাবি, বীরভূম নিয়ে এতটা চিন্তার কিছু নেই। কারণ বুথ স্তরে এখনও তেমন সংগঠন নেই বিজেপির। আগামী মাসের প্রথম থেকেই দলের ব্লক ভিত্তিক জনসভা শুরু হবে। তখনই বোঝা যাবে হাওয়া কোন দিকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement