—নিজস্ব ছবি।
চুয়াড় বিদ্রোহের নেতা ‘শহিদ’ রঘুনাথ মাহাতোর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় চাঞ্চল্য বাঁকুড়ার খাতড়ায়। ওই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়েরা লক্ষ্য করেন, খাতড়া লাগোয়া দেদুয়া মোড়ে থাকা ওই মূর্তির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। অবিলম্বে ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন ‘শহিদ রঘুনাথ মাহাতো স্মৃতিরক্ষা কমিটি’-র সদস্য থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু কে বা কারা ওই মূর্তি ভাঙল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
চুয়াড় বিদ্রোহের নেতা রঘুনাথ মাহাতোর স্মৃতিরক্ষায় ২০২২ সালে ‘রঘুনাথ মাহাতো স্মৃতিরক্ষা কমিটি’-র উদ্যোগে খাতড়া থানার দেদুয়া মোড়ে রঘুনাথের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন মূর্তির হাতে থাকা তির-ধনুকটি কেউ বা কারা রাতের অন্ধকারে ভেঙে দিয়ে গিয়েছে। মূর্তির বিভিন্ন অংশে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়েরা। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।
নির্বাচনের মুখে মূর্তি ভাঙার নেপথ্যে রাজনৈতিক উস্কানি থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। ‘রঘুনাথ মাহাতো স্মৃতিরক্ষা কমিটি’-র সম্পাদক বিকাশ মাহাতো বলেন, ‘‘চার বছর ধরে মূর্তিটি দেদুয়া মোড়ে রয়েছে। কোনও দিন তার উপর আঘাত হয়নি। হঠাৎ ভোটের আগে সোমবার রাতে কে বা কারা এই মূর্তির উপর আক্রমণ চালাল, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরাধীন। ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছি।’’ স্থানীয় বাসিন্দা মন্টু মাহাতো বলেন, ‘‘রঘুনাথ মাহাতো শুধু কুড়মি সমাজের গর্ব ছিলেন না, তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাওয়া একজন ব্যক্তি। রঘুনাথ মাহাতোর মূর্তির উপর এই আক্রমণে এখানকার সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং বিচার চাইছি।’’
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, খবর পাওয়ার পর সকালেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল খাতড়া থানার পুলিশ। খোঁজখবর শুরু হয়েছে।