পাত্রসায়রে। নিজস্ব চিত্র।
শিল্পের জন্য ঋণ দিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করেন বলে হামেশাই অভিযোগ তোলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের একাংশ। প্রশাসনের নানা অনুমতি পেতেও ‘কালঘাম’ ছোটে বলে আক্ষেপ করেন তাঁরা। উৎপাদিত পণ্যের বিপণন এবং ব্যবসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সবসময় প্রশাসনের থেকে মেলে না বলেও অভিযোগ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের এমনই নানা সমস্যার সমাধানে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন।
‘বাঁকুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর সহযোগিতায় মঙ্গলবার বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে অনুষ্ঠিত হল ‘ফিনান্স ক্লিনিক’। সেখানে হাজির ব্লকের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের সামনে পাত্রসায়রে শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন ব্যাঙ্ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। পাশাপাশি, তাঁদের নানা সমস্যার কথা শুনে তা নিরসনের আশ্বাস দিল প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন ও বণিকসভার সদস্যেরা মনে করেন, পাত্রসায়রের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সেখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সে কারণেই এ বছর জেলা সদরের পরিবর্তে পাত্রসায়রে ‘ফিনান্স ক্লিনিক’-এর আয়োজন করা হয়। ‘বাঁকুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর যুগ্ম-সম্পাদক প্রবীর সরকার বলেন, ‘‘এই প্রথম ফিনান্স ক্লিনিক হল কোনও ব্লকে। এখানে ব্লকের নতুন ও পুরনো শিল্পোদ্যোগীদের ব্যাঙ্ক ঋণ ও অন্য সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।’’ পাত্রসায়রের খুব কাছেই বর্ধমান। আবার, এই ব্লকের সঙ্গে বড়জোড়া ও দুর্গাপুরের যোগাযোগও বেশ ভাল। পাত্রসায়রের এক দিকে দামোদর এবং অন্য দিকে দ্বারকেশ্বর। ফলে, জল পেতে সমস্যা নেই। তাঁর মতে, ‘‘এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা প্রচুর। তেমনই প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে অন্য শিল্পও গড়ে তোলা যেতে পারে। নতুন উদ্যোগীরাও এগিয়ে আসছেন। ব্যাঙ্ক ঋণ এবং অন্য কাগজপত্র তৈরিতে তাঁদের যাতে অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে সাহায্য করা হবে।’’
শিল্প ক্লিনিকে হাজির ছিলেন জেলা শিল্পকেন্দ্র, ‘স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেট’ (সুইড) এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অধিকারিকেরা। শিল্পস্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তিরা তাঁদের নানা সমস্যার কথা জানান। উপস্থিত ছিলেন বিডিও (পাত্রসায়র) নিবিড় মণ্ডল, পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সিংহ। হাজির হয়েছিলেন কম-বেশি ৩৫ জন শিল্পোদ্যোগী। কয়েকজন শিল্পোদ্যোগী অভিযোগ করেন, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে সমস্যা হয়। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি দেখার জন্য ক্লিনিকে হাজির ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘প্রশাসনের থেকে জরুরি অনুমোদন পেতেও অনেক সময় লাগে। বিপণন-সহ নানা ব্যবসায়ীক বিষয় সম্পর্কে যে সব তথ্য জানা দরকার, সেগুলিও ঠিকমতো জানানো হয় না।’’
পাত্রসায়রে ‘ফ্লাই অ্যাশ’ থেকে ইট তৈরির এক কারখানার মালিক শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ ধরনের আলোচনাসভা ব্লকে যত হবে, তত আমাদের লাভ। প্রশাসনের সঙ্গে সব বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলা যায়।’’ তাঁর মতে, ‘‘পাত্রসায়রে পর্যাপ্ত জল রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত। শিল্প স্থাপনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এ ধরনের সভা থেকে দিশা পাবেন।’’ ফিনান্স ক্লিনিকে যোগ দিতে আসা পাত্রসায়রের সুপ্রিয় দত্ত, রহিম মল্লিকদের বক্তব্য, ‘‘নতুন ব্যবসা শুরুর আগে এ ধরনের সভা ভীষণ কাজে লাগবে।’’ বিডিও বলেন, ‘‘ব্লকের শিল্পোদ্যোগীদের কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, সে দিকে নজর রাখা হবে। নতুন উদ্যোগীরা এগিয়ে এলে, পাত্রসায়রের শিল্পের সম্ভবনা বাড়বে।’’