—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বাংলার ভোট ময়দানে সেই কবেই ‘ভোট দিয়ে যা...’ বলে গান লিখেছিলেন দাদাঠাকুর ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। তা শুনে মজেছিলেন বঙ্গবাসী। সেই গানের জোরে দাদাঠাকুরের পছন্দের কার্তিক ভোটেও জেতেন। এ বার বাঁকুড়ার ভোট-ময়দানেও ঘুরছে বিভিন্ন প্রার্থীকে নিয়ে বাঁধা ভোট-গান ওরফে থিম সং। তাতে মজেছেন বাঁকুড়াবাসী।
সাধারণত জেলায় বিভিন্ন উৎসব ও বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এত দিন থিম সং বাজানোর রেওয়াজ ছিল। ভোটদানে উৎসাহ দিতে প্রশাসনের তরফে গানের ভিডিয়োও আগে প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতেও থিম সং বাজানো হচ্ছে। এ বার বাঁকুড়া জেলার বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীরাও বিধানসভা ভিত্তিক থিম সং তৈরি করে প্রচারে নেমেছেন। ভোট ময়দানের প্রচারে এই নতুন মাধ্যমকে স্বাগত জানাচ্ছেন অনেকেই। তাঁদের কথায়, ভোট ময়দানে কুকথার শব্দ দূষণ বন্ধ রেখে এমন ভাবে গানের লড়াই চললে, মন্দ হয় না।
বড়জোড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিংহের জন্য প্রথম থিম সং তৈরি করে বড়জোড়া বিজেপি। সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন পেজে প্রচুর দর্শক তা দেখেন। এই গানে বড়জোড়ার মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কথা উঠে এসেছে। জনগণের মন কি বলছে, সে দাবিও তুলে ধরা হয়েছে গানে। তবে ওই গানের কয়েক দিন পরেই বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্রের জন্য ও গান বাঁধে দল। সেখানে গৌতম মিশ্রকে সমাজকর্মী হিসেবে তুলে ধরে সারা বছর মানুষের পাশে থাকেন বলে দাবি করা হয়েছে। বড়জোড়ার বাসিন্দা মানস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গত কয়েক বছর ধরে নির্বাচনে কুকথার বন্যা বইছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার মুখে। তার বদলে গানের মাধ্যমে মানুষের মন পাওয়ার চেষ্টা যথেষ্ট ভাল উদ্যোগ।’’
বিষ্ণুপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষকে নিয়েও তৈরি হয়েছে থিম সং। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সমসময় তন্ময় অর্থাৎ বুম্বাকে পাশে পাওয়া যায় দাবি করে গান বাঁধা হয়েছে। পাল্টা বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চট্টোপাধ্যায়ের জন্যও গান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে— ‘এ বার বিধানসভায় যাবেন শুক্লাদিদি...’। বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা রতন মণ্ডল বলেন, ‘‘বিষ্ণুপুর নিজস্ব সঙ্গীতঘরানার জন্য বিখ্যাত। তাই সেখানকার ভোট ময়দানে গানের লড়াই যে থাকবে, সেটাই কাম্য।’’
জেলার অন্য প্রান্তেও প্রার্থীদের নিয়ে গান ঘুরছে সমাজমাধ্যমে। সেখানে প্রচারের ভিডিয়োগুলির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে দলের তৈরি গানের অংশও। জেলার একটা বড় অংশের মানুষ মনে করেন ভোট প্রচারে গানের ব্যবহার অবশ্যই বাংলার সংস্কৃতির জন্য ভাল। তবে প্রচারের শেষ পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকুক, এমনটাই চাইছেন তাঁরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে