নলাটেশ্বরীতে পর্যটন কাঠামো চায় নলহাটি

নলহাটিতে অবস্থিত সতীপীঠ নলাটেশ্বরী মন্দির ও তার লাগোয়া টিলা ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র তৈরির বিষয়ে পর্যটন দফতরের তেমন কোনও উদ্যোগও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ নলাটেশ্বরী মন্দির কমিটির।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:৫৬
Share:

এ সপ্তাহেই জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

তার আগে জেলায় পঞ্চপীঠ দর্শনের পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে যত বার মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে এসেছেন, তত বারই বক্রেশ্বর, নন্দেকেশ্বরী, নলাটেশ্বরী, ফুল্লরা, কংকালীতলা— এই পঞ্চপীঠে আরও উন্নত পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নলাটেশ্বরী ও তার আশপাশের এলাকায় কোনও বদল হয়নি। তাঁদের ক্ষোভ, তৃণমূল সরকারের পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন রচপাল সিংহ পঞ্চপীঠে বাস পরিষেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও তা শুরু হয়নি।

নলহাটিতে অবস্থিত সতীপীঠ নলাটেশ্বরী মন্দির ও তার লাগোয়া টিলা ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র তৈরির বিষয়ে পর্যটন দফতরের তেমন কোনও উদ্যোগও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ নলাটেশ্বরী মন্দির কমিটির। মন্দিরের পুরোহিত, মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ বা সভাপতির অভিযোগ— মুখ্যমন্ত্রী জেলার পাঁচটি সতীপীঠে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নত করার ঘোষণা করেছেন, কিন্তু নলাটেশ্বরীর দিকে তেমন নজর নেই পর্যটন দফতরের আধিকারিকদের।

Advertisement

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রামপুরহাট মহকুমায় রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির বাইরে অন্য এলাকায় তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নলাটেশ্বরী মন্দিরে যাতায়াতের পরিকাঠামো এখনও অবহেলিত। নলহাটিতে বেশ কয়েকটি এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ নেই। সে জন্য অনেক পর্যটক নলহাটিতে আসতে পারেন না। নলাটেশ্বরী মন্দিরে যাতায়াতের জন্য সরকারি বাসের ব্যবস্থাও নেই। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে রাত্রিবাসের ব্যবস্থার উন্নতি হলেই পর্যটকরা তারাপীঠের মতো নলাটেশ্বরী মন্দির দর্শনে আসতে পারেন। এলাকাবাসীর দাবি, নলহাটিকেও তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় আনা হোক।

এলাকাবাসী লাল্টু ভট্টাচার্য, বাপি ভট্টাচার্য, মৃন্ময় মজুমদার জানান— নলাটেশ্বরী মন্দির, বৈধরা জলাধার, আকালীপুরের গুহ্য কালিকা মাতা, মহারাজ নন্দকুমারের স্মৃতিবিজড়িত ভদ্রপুর গ্রাম, পাল আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন থাকা নলহাটি থানার বারা গ্রাম ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র তৈরির সুযোগ রয়েছে। মুরারই থানার বাসিন্দা অর্নিবাণজ্যোতি সিংহ, রূপনাথ রায়, দীনবন্ধু দাস জানান— পাইকরে সেন যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন প্রশাসনিক উদাসীনতায় ধ্বংসের মুখে। পাইকর, জাজিগ্রাম, ভাদিশ্বর ও কনকপুরকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। অভিযোগ, প্রশাসনিক তরফে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে ওই এলাকার কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে লাভপুরের ফুল্লরার নাম। স্থানীয় সূত্রে খবর, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সেখানে একটি অতিথি নিবাস তৈরি করা হয়েছিল। তবে ওই এলাকায় রাস্তার কিছু উন্নতি হয়েছে। লাভপুরে তারাশঙ্করের কাছাড়িবাড়ি (ধাত্রীদেবতা নামেও পরিচিত) সংস্কার করে থাকার জায়গা তৈরি করেছে জেলা পরিষদ। তা ছাড়া বক্রেশ্বরে বাম সরকারের আমলে তৈরি যুব আবাসের সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। উষ্ণপ্রস্রবণ এলাকায় ঘাট বাঁধানো হয়েছে। রাস্তাঘাটের কিছুটা হলেও উন্নয়ণ হয়েছে। গঠিত হয়েছে বক্রেশ্বর-পাথরচাপুড়ি উন্নয়ন পর্ষদ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পর্যটকদের রাত্রিবাসের তেমন কোনও পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। যাতায়াত ব্যবস্থাও কিছুটা বেহাল। নন্দীকেশ্বরী তলায় এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি অতিথি নিবাস তৈরি করা হয়নি। সৌন্দর্যায়ন কিছুটা হলেও পর্যটকদের থাকার জন্য সরকারি ভাবে তৈমন কোনও পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কংকালীতলা যাওয়ার রাস্তার উন্নতি হয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাও আগের থেকে ভাল হয়েছে। তা ছাড়া রয়েছে সরকারি অতিথি নিবাস।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement