ব্যস্ত: গাছ লাগানোর জন্য খোঁড়া হচ্ছে গর্ত। নিজস্ব চিত্র
ঘূর্ণিঝড় আমপানের প্রভাব বীরভূমে তেমন পড়েনি। বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে ঠিকউ, কিন্তু আমপান-সহ চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ঝড়ে বড় গাছের ক্ষতি হয়নি। তবু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি অনুর্বর জমির উর্বরতা বাড়ানো লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণে জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। বছরে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পরিকল্পনা রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ, শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সেই কাজের সূচনা হচ্ছে জেলায়।
১০০ দিন কাজ প্রকল্পের জেলার নোডাল অফিসার শুভঙ্কর ভট্টাচার্য জানান, চলতি আর্থিক বছরে জেলায় ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই মতো বিভিন্ন নার্সারিতে চারাগাছ লাগানো হয়েছে। ১০০ দিনের প্রকল্পে বিভিন্ন ব্লকে বৃক্ষরোপণের জন্য গর্ত খোঁড়ার কাজ বেশ কিছু দিন থেকেই শুরু হয়েছে। ৪৫ দিন আগে যে-সব গর্ত খোঁড়া হয়েছে, সেগুলিতে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপণ ঘিরে জেলার ১৯টি ব্লকের বিডিও-দের কাছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরে সেই মতো প্রস্ততি শুরু হয়েছে। বোলপুর-রাজগ্রাম রাজ্য সড়কের দু’পাশে নলহাটি থেকে রাজগ্রাম পর্যন্ত অংশে মুরারই ১ ব্লকের তরফে সামাজিক বনসৃজন প্রকল্পের কাজ শুক্রবার শুরু হবে। মুরারই ১ ব্লকের ৭টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬টি পঞ্চায়েত এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। নলহাটি ১ ব্লকের বড়লা পঞ্চায়েত, হরিদাসপুর পঞ্চায়েত এবং বানিওড় পঞ্চায়েতে ব্যক্তিগত উদ্যোগকারীদের সামাজিক বনসৃজনে উৎসাহ দেবে। রামপুরহাট ১ ব্লকেও পরিবেশ দিবসে ১০০ দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক বনসৃজন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বিডিও (মুরারই ১) নিশীথ ভাস্কর পাল বলেন, ‘‘নলহাটি থেকে রাজগ্রাম পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাজ্য সড়কের দু’ধারে গাছের সংখ্যা খুব কম। চলতি আর্থিক বছরে ১০০ দিন কাজ প্রকল্পে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে ব্লকের অধীন ৬টি পঞ্চায়েতকে যুক্ত করা হয়েছে।’’ ওই রাস্তার দু’পাশে মূলত কৃষ্ণচূড়া, কিছু জায়গায় বট গাছ লাগানো হবে। রাস্তার দু’ধারে গাছ লাগানোর জন্য ১০০ দিন কাজ প্রকল্পে ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার গর্ত খোঁড়া হয়েছে। ১২ মিটার করে দূরত্ব রেখে গাছগুলি লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিছু গর্তের চারপাশ ইট দিয়ে ঘেরাও হয়েছে।
বিডিও (নলহাটি ১) জগদীশ চন্দ্র বাড়ুই জানান, ১০০ দিন কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে অনুর্বর জমিকে উর্বর করার লক্ষ্যে বড়লা পঞ্চায়েতের বুজুং গ্রামের পাশে আম, কলা, লেবু গাছের চারা দিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বনসৃজন প্রকল্পে উৎসাহ দেওয়া হবে। এ ছাড়া হরিদাসপুর পঞ্চায়েতে কিছু জমিতে বালির চর পড়ে জমি পতিত হয়ে আছে। সেই জমিতে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।