Purulia Medical College Ragging

পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে র‌্যাগিং: দুই ডাক্তারি পড়ুয়া সাসপেন্ড, আর ঠাঁই হবে না হস্টেলে! নির্দেশ কর্তৃপক্ষের

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম বর্ষের মেডিক্যাল পড়ুয়া মেহবুব ইসলামকে হস্টেলে নিজেদের ঘরে ডেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ঋষভ সিংহ এবং চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অয়ন বাগচীর বিরুদ্ধে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৭
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রথম বর্ষের পড়ুয়াকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পড়ুয়াকে ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড করলেন পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্ত দুই ডাক্তারি পড়ুয়া আর কোনও দিনই সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে থাকতে পারবেন না। শনিবার কলেজের এই পদক্ষেপ ঘোষণায় খুশি নির্যাতিত পড়ুয়ার অভিভাবকেরা।

Advertisement

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম বর্ষের মেডিক্যাল পড়ুয়া মেহবুব ইসলামকে হস্টেলে নিজেদের ঘরে ডেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ঋষভ সিংহ এবং চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অয়ন বাগচীর বিরুদ্ধে। মেহবুবের অভিযোগ, সিনিয়র ওই দুই পড়ুয়ার কথা মতো তাঁকে আরও কয়েক জন সিনিয়র মারধর করেন। মেহবুবের চিকিৎসাও করাতে হয় হাসপাতালে।

ওই ঘটনার কথা জানার পর শুক্রবার মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে পুরুলিয়া সরকারি মেডিক্যাল কলেজে যায় মেহবুবের পরিবার। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে র‍্যাগিংয়ের লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযুক্ত দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কলেজের তরফে কঠোর পদক্ষেপ না করলে আইনি লড়াইয়েরও হুঁশিয়ারি দেয় মেহবুবের পরিবার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নামেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। র‌্যাগিংয়ের প্রমাণ মেলায় দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।

Advertisement

শনিবার নিগৃহীত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস। তার পরেই অভিযুক্তদের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘শারীরিক কারণে আমি কলকাতায় ছিলাম। অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া ছিল হাসপাতালের সুপারের উপর। ঘটনার কথা জানার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কলেজে ফিরে নিগৃহীত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। অভিযুক্ত দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য কলেজের তরফে হেল্পলাইন নম্বর চালু ও সিসি ক্যমেরার নজরদারি বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

নিগৃহীত ছাত্রের মা মলিনা খাতুন বলেন, ‘‘প্রথমে আমাদের অভিযোগে আমল দেওয়া হয়নি। পরে চাপে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে নেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’’ নিগৃহীত ছাত্র জানান, হেল্প লাইন নম্বর চালু হলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে তাঁর মতো আর কেউ হেনস্থার শিকার হবেন না। তিনি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে কেউ যেন র‍্যাগিং করার সাহস না পায়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement