India-US Trade Agreement

৫ বছরে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য কিনতে হবে আমেরিকার থেকে, ছাড় কৃষিদ্রব্যেও! শুল্ক কমাতে দিল্লিকে কী দিতে হচ্ছে

শুল্ক হ্রাসের কথা আগেই জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার আমেরিকার সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার বিষয়গুলিকে স্পষ্ট করল ভারত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০
Share:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ভারত। শনিবার ভোরে (ভারতীয় সময়) যৌথ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী এই সমঝোতার বিভিন্ন দিকগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের পণ্যের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সার্বিক শুল্কও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে ১৮ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতও বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকার শর্ত মেনে নিয়েছে। আমেরিকার কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) পণ্য আমদানি করতে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি।

Advertisement

ভারত-আমেরিকা যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সমস্ত মার্কিন বাণিজ্যিক পণ্য এবং একাধিক খাদ্য ও কৃষিপণ্যের উপর থেকে ভারত হয় শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে, নয়তো তার পরিমাণ কমাবে। এই তালিকায় রয়েছে শুকনো খাদ্যশস্য, পশুখাদ্যের লাল জোয়ার, বাদাম, তাজা ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ইত্যাদি।

এ ছাড়া, নিজ নিজ স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে ভারত ও আমেরিকা একে অপরকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেবে। এই শর্ত মেনে নিয়েছে উভয়পক্ষই।

Advertisement

অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে, এমন অশুল্ক বাধাগুলি সরাতে ভারত-আমেরিকা দুই দেশই সচেষ্ট হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষিক্ষেত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবসায় জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতের বাজারে মার্কিন চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবসায় বেশ কিছু বাধা ছিল। সেগুলির মোকাবিলা করতে রাজি হয়েছে দিল্লি। মার্কিন তথ্য ও যোগাযোগ পণ্যের (আইসিটি) বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতির জন্য এত দিন যে দেরি হত, ভারত তা-ও সরিয়ে নেবে।

বাণিজ্য সমঝোতার অন্যতম শর্ত, পাঁচ বছরের মধ্যে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য ভারতকে কিনতে হবে। তার মধ্যে খনিজ তেল, গ্যাস, রান্নার কয়লা, বিমান, বিমানের যন্ত্রাংশ, দামি দামি ধাতু এবং প্রযুক্তিগত পণ্যও থাকবে। এ ছাড়া, ডেটা সেন্টারের কাজে লাগে, এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক পণ্যও আমেরিকার কাছ থেকে কিনতে হবে ভারতকে।

পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিকপণ্য, রবার, জৈব রাসায়নিক, অন্দরসজ্জার সরঞ্জাম এবং নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ১৮ শতাংশ পণ্যে আমেরিকায় রফতানি করতে পারবে ভারত। বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে অন্যান্য মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলি যা শুল্ক দেয়, তা-ই দিতে হবে ভারতকেও।

আমেরিকা জানিয়েছে, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন বা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও লাইসেন্সিংয়ের মান গ্রহণযোগ্য কি না, ছ’মাসের মধ্যে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকে।

সংবেদনশীল প্রযুক্তির রফতানি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তৃতীয় পক্ষের বাজার-বহির্ভূত নীতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ করতে রাজি হয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই শর্তের মাধ্যমে আসলে চিনকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদিও যৌথ বিবৃতিতে কোনও দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া, ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতি ও বাধা দূর করতে রাজি হয়েছে দুই পক্ষই।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল জানিয়েছেন, সংবেদনশীল কৃষিজাত ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে। উদাহরণ হিসাবে ভুট্টা, চাল, গম, সয়াবিন, পোলট্রি, দুধ, চিজ়, তামাক, ইথানল (জ্বালানি), মাংস এবং নির্দিষ্ট কিছু সব্জির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-আমেরিকার এই বাণিজ্য-সমঝোতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী দিনে এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় আরও কিছু যোগ-বিয়োগ হতে পারে। অনেকগুলি বিষয়ে ঐকমত্য হলেও এখনও বেশ কিছু ক্ষেত্রে দু’পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারেনি। তা নিয়ে দর কষাকষি চলতে থাকবে, যত ক্ষণ না পূর্ণ মাত্রার বাণিজ্যিক চুক্তি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement