অফিস টাইমে ট্রেনের দাবি দুই শহরে

বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়ার মধ্যে অফিস টাইমে সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। এ বার তাই কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি বদলের দাবি তুললেন ট্রেনের নিত্যযাত্রীরা। তাঁরা রেলের কাছে সম্প্রতি এ ব্যাপারে দাবিপত্র জমা দিয়েছেন। আদ্রার ডিআরএম অনশুল গুপ্ত বলেন, ‘‘দাবিগুলি পেয়েছি। বিবেচনা করার জন্য তা দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৫ ০২:১০
Share:

বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়ার মধ্যে অফিস টাইমে সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। এ বার তাই কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি বদলের দাবি তুললেন ট্রেনের নিত্যযাত্রীরা। তাঁরা রেলের কাছে সম্প্রতি এ ব্যাপারে দাবিপত্র জমা দিয়েছেন। আদ্রার ডিআরএম অনশুল গুপ্ত বলেন, ‘‘দাবিগুলি পেয়েছি। বিবেচনা করার জন্য তা দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, পুরুলিয়া স্টেশন থেকে অফিসের সময়ে বাঁকুড়ায় পৌঁছনোর ট্রেন থাকলেও বাঁকুড়া স্টেশন থেকে সরাসরি পুরুলিয়ায় পৌঁছনোর কোনও ট্রেন নেই। তাঁদের মতে, কয়েকটি ট্রেনের যাত্রার সময়ের সামান্য অদল বদল ঘটালেই এ সমস্যা সমাধান হতে পারে। বাঁকুড়া-ধানবাদ প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি বাঁকুড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে সকাল ৭:৪০-এ। ওই ট্রেনের সময় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, এর ফলে আদ্রা থেকে সকাল ৮:২৫-এ ধানবাদ-টাটানগর যে এক্সপ্রেস টেনটি ছাড়ে সেই ট্রেনটি ধরে নিত্যযাত্রীরা পুরুলিয়ায় যেতে পারেন। কিন্তু এখন বাঁকুড়া-ধানবাদ ট্রেনটি যখন আদ্রা স্টেশনে পৌঁছয় তার সামান্য আগেই ধানবাদ-টাটানগর ট্রেনটি আদ্রা থেকে ছেড়ে যায়।
এই শাখার ট্রেনযাত্রী প্রিয়নাথ হালদারের কথায়, ‘‘বাঁকুড়া থেকে টাটানগরগামী কোনও ট্রেন নেই। তাই বাঁকুড়া-ধানবাদ প্যাসেঞ্জারের যাত্রীরা যাতে ধানবাদ-টাটানগর ট্রেনটি পেতে পারেন তারই দাবি জানানো হয়েছে। অথবা নতুন একটি ট্রেন দেওয়া হোক যেটি বাঁকুড়া থেকে টাটানগর যাবে। ওই ট্রেন অফিসের সময়ে চালু করা হলে পুরুলিয়া স্টেশনেও সময়ে পৌঁছনো যাবে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার দিকে আদ্রা-বিষ্ণুপুর মেমু প্যাসেঞ্জার সন্ধ্যে ৭:৪০-এ আদ্রা থেকে বিষ্ণুপুরের দিকে রওনা দেয়। তার ১৫ মিনিট আগেই রাঁচি-গড়বেতা প্যাসেঞ্জারটি একই পথেই গড়বেতার দিকে যায়। তাই যাত্রীরা আদ্রা-বিষ্ণুপুর মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সময় পিছোনোর দাবি তুলেছেন। এই ট্রেনটি আদ্রা থেকে সাড়ে আটটা নাগাদ রওনা দিলে আরও বেশি যাত্রী ওই ট্রেনে উঠতে পারবেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

Advertisement

পাশাপাশি খড়গপুর-পুরুলিয়া ইন্টারসিটি ট্রেনটির সময়সূচি বদলেরও দাবি জানানো হয়েছে। এই ট্রেনটি বর্তমানে রবিবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার খড়গপুর-পুরুলিয়া (ভায়া আদ্রা) শাখায় চলাচল করে। ওই ট্রেনটিকে রবিবারের বদলে সপ্তাহের প্রথমদিন সোমবারে চালানো এবং এই ট্রেনটির সময়সূচি এগিয়ে আনার দাবিও জানানো হয়েছে। যাত্রীদের কথায়, ট্রেনটি খড়গপুর থেকে রওনা দেয় সকাল ৭.২৫ মিনিটে। তার একটু পরেই একই পথে রূপসী বাংলা পুরুলিয়ায় আসে। তাই ইন্টারসিটি ট্রেনটিকে অন্তত ঘন্টাখানেক এগিয়ে আনা হলে যাত্রীরা উপকৃত হবেন।

সকাল ৯:১৫-র পরে আদ্রা থেকে বাঁকুড়ার দিকে যাওয়ার জন্য দুপুর ২:২৫-এর আগে কোনও লোকাল ট্রেন নেই। সপ্তাহে তিন দিন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ও ছ’দিন আরণ্যক এক্সপ্রেস থাকলেও এই ট্রেনগুলি সমস্ত স্টেশনে থামে না। এই শাখায় দুপুরের আগে লোকাল ট্রেন দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। বরকাখানা-আদ্রা ডাউন ট্রেনটির সময় বদলের দাবিও তোলা হয়েছে। এই ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭:১০-এ পুরুলিয়া থেকে ছেড়ে আদ্রা রওনা দেয়। যাত্রীরা জানিয়েছেন, তার ১০ মিনিট পরেই বরাভূম-আসানসোল মেমু প্যাসেঞ্জার একই রুট দিয়ে আদ্রা পর্যন্ত আসে। বরকাখানা-আদ্রা ট্রেনটি চক্রধরপুর-হাওড়া ফার্স্ট প্যাসেঞ্জারের পরে চালানোর দাবি তোলা হয়েছে। কারণ চক্রধরপুর-হাওড়া ট্রেনের পরে পুরুলিয়া-আদ্রা রুটে আর কোনও ট্রেন নেই। এর সঙ্গে রূপসী বাংলা যাতে ফের হাওড়া থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়, তার দাবিও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য এই ট্রেনটি হাওড়া পর্যন্ত গেলেও সকালে হাওড়ার বদলে সাঁতরাগাছি থেকে পুরুলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement