বিতর্কিত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছেই। এ বার রামপুরহাটের সেই আইসি-র ভূমিকায় বিস্তর ক্ষোভ জানিয়ে বিডিও-র দ্বারস্থ হল বামফ্রন্ট।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই আইসি-র অপসারণের পাশাপাশি তৃণমূল পরিচালিত রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির নানা কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবিতে বামেরা সংশ্লিষ্ট বিডিও-কে স্মারকলিপিও দিল। ওই কর্মসূচি উপলক্ষে ব্লক প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ দিন পাঁচশোরও বেশি বাম কর্মী-সমর্থক মাইক বাজিয়ে জমায়েত করেন। সেখানে বক্তব্য রাখা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসাও হয়। পুলিশের আপত্তিতে মাইক বন্ধ করে বাম নেতা-কর্মীরা মুখেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপের বিরোধিতায় স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব বর্মণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘তৃণমূল যখন বিডিও অফিসের সামনে মাইক বেঁধে দলীয় কর্মসূচি করে, তখন তো আমাদের পুলিশ-প্রশাসন কোনও আপত্তি থাকে না! থানার আইসি যখন ক্ষমতার দম্ভে এক জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে থানা থেকে বের করে দেন, কই তখন তো কোনও আইন দেখা হয় না!’’ তাঁর আরও প্রশ্ন, পঞ্চায়েত সমিতি উন্নয়নের টাকা তছরুপ করলেও বিডিও কেন চুপ করে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিডিও নীতীশ বালা অবশ্য জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ দিনে অভিযোগের ক্ষেত্রেও সেই পদক্ষেপ করা হবে বলে ওই আধিকারিক দাবি করেছেন।
এ দিনের লিখিত স্মারকলিপিতে বামেদের পক্ষ থেকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে রামপুরহাট থানার আইসি-র বিরুদ্ধে এলাকার বালিঘাট, পাথর শিল্পাঞ্চল থেকে তোলা আদায় এবং থানায় বসে শাসকদল তৃণমূলের ‘দালালি’ করার অভিযোগ জানানো হয়েছে। আইসি-র নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর আর এক সদস্য গোকুল ঘোষ দাবি করেন, ‘‘সম্প্রতি আয়াষ গ্রামের নিরপরাধ ২২ জন গ্রামবাসীকে রামপুরহাট থানায় তুলে এনে যথেচ্ছ ভাবে মারধর করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে।’’ ওই সব অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় রামপুরহাটের এসডিপিও জোবি থমাস কে বলেন, ‘‘বিডিও-র কাছে স্মারকলিপি জমা পড়েছে। আমি আর এ নিয়ে কী বলব!’’
এ দিন বামেরা সরব হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধেও। জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা সিপিএমের খাইরুল হাসান দাবি করেন, ‘‘বিরোধীদের কোনও গুরুত্ব না দেওয়ার পাশাপাশি ওরা নিয়ম মেনে কোনও কাজই করছে না। কাজের খরচের হিসাবও বিরোধীদের দেওয়া হয় না। স্থায়ী সমিতিতে আলোচনা না করে, বিরোধী সদস্যদের অন্ধকারে রেখে দলীয় নেতার নির্দেশে কাজকর্ম করা হচ্ছে। ই-টেন্ডারের নামে বকলমে দলের নেতৃত্বকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’ সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে পাল্টা দাবি করেছেন ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, তৃণমূলের পম্পা মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে এক জন দলীয় সদস্য যেমন গুরুত্ব পান, তেমনই সমান গুরুত্ব পান বিরোধী সদস্যেরাও। সমস্ত কাজের হিসাবও তাঁদের দেওয়া হয়।’’
এ দিকে, পরীক্ষা চলাকালীন রামপুরহাট গার্লস্ হাইস্কুলের সামনে বামেরা এ দিন মাইক ও বাজনা বাজিয়ে মিছিল করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা রামপুরহাটের উপপুরপধান সুকান্ত সরকারের। সঞ্জীববাবুর অবশ্য দাবি, ওই স্কুল থেকে অনেকটা দূরেই তাঁরা মিছিল করেছেন।