আসন বাড়িয়েও কলেজে মিটছে না ভর্তি সমস্যা

কলেজের পরিকাঠামো অনুযায়ী ছাত্রভর্তির সংখ্যা ইতিমধ্যেই বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাড়ানো হয়ে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দিনও। তবু রামপুরহাট কলেজে ভর্তির সমস্যা সেই তিমিরেই! বি এ পাশ কোর্সে আবেদন জানিয়েও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০০ আবেদন কারী ভর্তি হতে পারছেন না। আর সেই নিয়েই জটিলতা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে রামপুরহাট কলেজের ছাত্র সংসদ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০১৪ ০০:৩৯
Share:

কলেজের পরিকাঠামো অনুযায়ী ছাত্রভর্তির সংখ্যা ইতিমধ্যেই বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাড়ানো হয়ে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দিনও। তবু রামপুরহাট কলেজে ভর্তির সমস্যা সেই তিমিরেই! বি এ পাশ কোর্সে আবেদন জানিয়েও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০০ আবেদন কারী ভর্তি হতে পারছেন না। আর সেই নিয়েই জটিলতা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে রামপুরহাট কলেজের ছাত্র সংসদ।

Advertisement

কলেজ সূত্রে জানা যায়, রামপুরহাট কলেজে বি এ পাশ কোর্স সকালে এবং দুপুরে দুই দফায় পড়ানো হয়। কলেজের পরিকাঠামো অনুযায়ী ২০১৩ সালে সকালের বিভাগে বি এ পাশ কোর্সের ৪১৪ জন পড়ুয়া ও দুপুরের বিভাগে ৬৮৮ জন পড়ুয়াকে ভর্তি করার অনুমোদন দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছর সকালের বিভাগে ৫৪ জন এবং দুপুরের বিভাগে ৩৩ জন পড়ুয়াকে ভর্তি করার অনুমতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে যেখানে ২৮ জুলাই ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ ছিল, সেখানে ১৪ অগষ্ট পর্যন্ত ভর্তির দিন বাড়িয়েও দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবু সমস্যা সেই তিমিরেই।

বিষ্ণুপুর রসমঞ্জরী হাইস্কুল থেকে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন মাড়গ্রাম থানার দক্ষিণ নারায়ণপুর গ্রামের পড়ুয়া চন্দন সাহা। ফিজিক্যাল এডুকেশন নিয়ে রামপুরহাট কলেজে বি এ পাশ কোর্স পড়ার ইচ্ছে তাঁর। কিন্তু কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর দিন থেকে ঘুরছেন। চন্দনবাবু বলেন, “কবে যে ভর্তি হতে পারব বুঝে উঠতে পারছি না। অথচ আমাদের মতো সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা যারা অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পেয়েছে, তারা কি কলেজে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে?” চন্দনবাবুর মতো ভর্তি হতে না পেরে কপালে ভাঁজ অনেকেরই। রামপুরহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়দেব পান বলেন, “রামপুরহাট কলেজের আশেপাশে ২৬টি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। নলহাটি বা মল্লারপুর, বা মুরারইয়ে সেই চাপটা নেই। রামপুরহাট কলেজের উপর সেই চাপ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বি এ পাশ কোর্সে ভর্তির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। তবুও ৮০০ জন আবেদনকারী কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। ছেলেমেয়েদের কথা বিবেচনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পুনরায় আবেদন করব।”

Advertisement

কলেজের তৃণমূল পরিচালিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাগর কেশরী বলেন, “কলেজ চাইলেও আর নতুন করে ছাত্র ভর্তি হোক বিশ্ববিদ্যালয় চাইছে না। তাহলে অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পেয়ে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা অন্য কলেজে ভর্তি হতে না পেরে ভর্তির আশায় রামপুরহাট কলেজে আবেদন করেছেন তাঁরা কোথায় যাবেন।” প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমস্যা না মেটালে আন্দোলনে নামার কথাও বলেছেন সাগরবাবু। তিনি বলেন, “ওই সমস্ত ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা ইতিমধ্যে কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছি। তা না হলে বুধবার থেকে ভর্তির সমস্যা মেটানোর দাবিতে কলেজে সাধারণ ছেলেমেয়েদের নিয়ে আন্দোলন শুরু হবে।”

রামপুরহাট কলেজে ভর্তি সমস্যা নিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দেবকুমার পাঁজা বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনও লিখিত ভাবে কিছু জানায়নি। আমরা তাঁদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কি ভাবে কি করা যায় জানাতে পারব।” রামপুরহাট কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা রাজ্যের শিক্ষা প্রতি মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ছেলেমেয়েরা যাতে কলেজে পড়ার সুযোগ পায় সে ব্যপারে আমাদের নজর আছে। সেই সঙ্গে কলেজের পরিকাঠামোগত দিকের কথাও দেখা হচ্ছে। রামপুরহাট কলেজে যে সমস্ত ছেলেমেয়ে এখনো ভর্তি হতে পারেনি তাঁরা যাতে ভর্তি হতে পারেন, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement