মনু চৌধুরী অন্তর্ধান রহস্য

গাড়ি মিলল অসমে, ধৃত দুই

মনু চৌধুরীর অন্তর্ধান হওয়ার ২৫ দিন পর ভিন্‌ রাজ্য অসমে হদিশ মিলল তাঁর গাড়ির। পেশায় গাড়ি চালক, বোলপুরের নিখোঁজ মনুর দাদা অর্জুন চৌধুরী এবং ওই গাড়ির মালিক মাধব সিংহ জানান, গাড়িটিকে অসমের বড়পেটা থানা এলাকার শান্তিপুর চেকগেটের কাছে পুলিশ আটকায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৫৬
Share:

মনু চৌধুরীর অন্তর্ধান হওয়ার ২৫ দিন পর ভিন্‌ রাজ্য অসমে হদিশ মিলল তাঁর গাড়ির। পেশায় গাড়ি চালক, বোলপুরের নিখোঁজ মনুর দাদা অর্জুন চৌধুরী এবং ওই গাড়ির মালিক মাধব সিংহ জানান, গাড়িটিকে অসমের বড়পেটা থানা এলাকার শান্তিপুর চেকগেটের কাছে পুলিশ আটকায়। গাড়ির কাগজপত্র দেখে ফোন আসে অসম পুলিশের। তার পর থেকেই বিষয়টি জানাজানি হয়। বোলপুর পুলিশ ও অজুর্নবাবু রওনা দেন অসমের উদ্দেশে। বীরভূম জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, নিখোঁজ গাড়িটি উদ্ধারের সময় গাড়িতে থাকা ধৃত দু’জনকে অসমের ডিফু আদালতে রিমান্ডে নেওয়ার কথা বীরভূম পুলিশের।

Advertisement

ঘটনা হল, এতদিন পরেও মনুর নিখোঁজ রহস্যের কোনও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ তারিখ ওই গাড়িটিকে অসম পুলিশ আটক করে, এ রাজ্যে খবর পাঠালেও, পুলিশ তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়নি। তাঁদের দাবি, ‘‘সেই সময়েই পুলিশ উদ্যোগী হলে, এত দিনে মনুর খোঁজ মিলত।’’ অগস্ট মাসের ২১ তারিখ শান্তিনিকেতনের দক্ষিণ গুরুপল্লির বাসিন্দা, পেশায় গাড়ি চালক মনু ভাড়ার গাড়ি নিয়ে হাজারদুয়ারী যান। তাঁর ওই দিন ফেরার কথা থাকলেও, ফেরেননি। পরের দিন অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে না দেখে, গাড়ির মালিক মাধব সিংহ এবং নিখোঁজ গাড়ি চালক মনু চৌধুরীর বাবা নির্মল চৌধুরী রাতে নিখোঁজের ডায়েরি করেন। এর পর থেকেই চার দিকে হন্যে হয়ে খুঁজেও কোনও কিনারা হইনি মনুর।

গাড়ি উদ্ধার করে অসম পুলিশ, তার চেসিস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে আসানসোলে যে দোকান থেকে গাড়িটি কেনা হয়েছিল, সেখানে ফোন করে। সেই দোকানই গাড়ির প্রথম মালিকের নম্বর দেয় তাঁদের। এরপরই অসম পুলিশ সেই ব্যক্তির কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করে মাধব সিংহকে। মনুর দাদা এবং তাঁর এক বন্ধু অসমের উদ্দেশে রওয়না হন। গাড়ি মালিক মাধব সিংহ এবং বোলপুর থানার এসআই রতন সেনও অসমে যান সোমবার। অসম থেকে এ দিন মাধববাবু বলেন, ‘‘বোলপুর পুলিশ এসেছে। গাড়ির চাকা এবং নম্বর পাল্টে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মাধববাবুকে জানিয়েছে অসম পুলিশ।’’

Advertisement

অসম পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ির চাকা, নম্বর-সহ একাধিক বিষয় পাল্টানোয় সন্দেহ হয় অসম পুলিশের। তাই তারা আটক করে। মনুর পরিবারের মতো বোলপুরের তার বন্ধুদের ক্ষোভ ২৭ তারিখ অসম পুলিশ মারফৎ এ রাজ্যে খবর এলেও, পুলিশ কিন্তু এত দিন কাউকে কিছু জানায়নি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে মনুর পরিবারও। তাঁর বাবা নির্মল চৌধুরী বলেন, “ওই সময়ে খবর আসার পর পুলিশ যদি উদ্যোগী হত, তাহলে আমার ছেলে সন্ধান এত দিনে মিলত। কিন্তু পুলিশ তা না করায়, আজও ছেলে নিখোঁজ। কোনও কিনারা হয়নি!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement