স্বামীর ছোট মুদির দোকান। টানাটানির সংসার। নিজে স্বাবলম্বী হয়ে স্বামীকে সাহায্য করার চিন্তাটা ছিল অনেক দিন ধরেই। ছেলে ভর্তি হয়েছিল বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের হেল্থ ওয়ার্কার পাঠক্রমে। ছেলের কাছেই শুনেছিলেন বৃত্তিমূলক পাঠক্রমে ভর্তির বয়েসের ঊর্ধ্বসীমা নেই। জরির কাজ ও কাঁথা স্টিচের পাঠক্রমে হাতের কাজ শিখে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তাই যেমন ভাবা তেমনি কাজ। স্থানীয় বি সি গার্লস হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণি স্তরের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জরির কাজ ও কাঁথা স্টিচের পাঠক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন মা। এ বার আঠারো বছরের ছেলে সৌরভের সঙ্গেই ফাইনাল পরীক্ষা দিলেন রঘুনাথপুর ২ ব্লকের সদর চেলিয়ামা গ্রামের পোদ্দার পাড়ার বছর বিয়াল্লিশের বধূ করবী মিত্র। সম্প্রতি চেলিয়ামার বি সি গার্লস হাইস্কুলে একই সঙ্গে পরীক্ষা দিল মা ও ছেলে। পরীক্ষা শেষে করবীদেবী বলেন, ‘‘পরীক্ষায় পাশ করে বাড়িতেই মেশিন কিনে কাজ করে স্বাবলম্বী হতে চাই।’’
বস্তুত নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছার টানেই প্রতিকূলতা পেরিয়ে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘সংসারের দৈনন্দিন কাজ সামলে স্কুলে এসে ক্লাস করে পরীক্ষা দিতে পারব কি না তা নিয়ে সংশয় ছিলই। কিন্তু জরির কাজ ও কাঁথা সেলাই শিখলে সাবলম্বী হওয়া যে সম্ভব, ছেলের কাছে তা শোনার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সমস্যা থাকলেও ভর্তি হব।” বি সি গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চৈতালী মজুমদার বলেন, ‘‘সংসার সামলে এই বয়েসে ফের পড়াশোনা করাটা যথেষ্ট কঠিন। করবীদেবী সেই সাহস দেখিয়েছেন।”