বাঁকুড়ার কলেজে টোকাটুকির নালিশ

জায়গা নেই, এক বেঞ্চে তিন পরীক্ষার্থী

এ দিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট- ১ এর দর্শনের পরীক্ষা ছিল। কলেজের অধ্যক্ষ সমীর মুখোপাধ্যায় জানান, এই কলেজে সব মিলিয়ে ৭৫০ জন পরীক্ষার্থী বসানোর জায়গা রয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০১৪ ০১:৩৬
Share:

এক বেঞ্চে ঠাসাঠাসি। শুক্রবার বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজে তোলা নিজস্ব চিত্র।

পরীক্ষাকেন্দ্রে অত্যাধিক বেশি সংখ্যায় পরীক্ষার্থীর আসন পড়ায় বৃহস্পতিবার গোলমাল পাকালো বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজে। এক বেঞ্চে দু’জনের বেশি সংখ্যায় ছাত্রছাত্রী প্রায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করতে বসে পরীক্ষা দিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে কার্যত নাকানিচোবানি খেলেন শিক্ষকরা। আর এই সুযোগে পরীক্ষাকেন্দ্রে টোকাটুকি চলল বলে অভিযোগ। কলেজের অধ্যক্ষ সমীর মুখোপাধ্যায় পরীক্ষা কেন্দ্রে জায়গার সমস্যার কথা স্বীকার করলেও টোকাটুকির অভিযোগ মানতে চাননি।

Advertisement

তবে খবর পৌঁছয় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কানেও। বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজে টোকাটুকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোলমাল হচ্ছে বলে তিনি খবর পান। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্মৃতিকুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পার্থবাবু বলেন, “এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে উপাচার্যকে বলেছি।” বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্মৃতিকুমার সরকার বলেন, “ঘটনার কথা আমি শুনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

এ দিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট- ১ এর দর্শনের পরীক্ষা ছিল। কলেজের অধ্যক্ষ সমীর মুখোপাধ্যায় জানান, এই কলেজে সব মিলিয়ে ৭৫০ জন পরীক্ষার্থী বসানোর জায়গা রয়েছে। অথচ ওন্দাথানা মহাবিদ্যালয়, বেলিয়াতোড় যামিনী রায় কলেজ ও বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের মোট এক হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীকে এ দিন বসার জায়গা করে দিতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বেঞ্চে দু’জন করে পরীক্ষার্থী বসতে পারেন। কিন্তু তা না হয়ে চার জনকে পর্যন্ত বসার জায়গা করে দিতে হয়েছে। এতে যেমন পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে, তেমনই পরীক্ষার্থী ও কলেজ শিক্ষকদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

Advertisement

পরীক্ষা চলাকালীন কলেজে গিয়ে দেখা গেল, অতিরিক্ত পরিমাণ পরীক্ষার্থীর ভিড়ে হলঘরে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে ফিসফিসানি কোলাহলের আকার নিয়েছে। ভিড়ের মাঝে টোকাটুকির ঘটনাও চোখে পড়েছে। ভিড়ের ঠেলায় লিখতে গিয়েও সমস্যায় পড়েছে অনেক পরীক্ষার্থী। সর্বপরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গোটা হলঘর জুড়ে দৌড়ে বেড়ালেন কলেজ শিক্ষকরা। তাতেও বিশৃঙ্খলা বন্ধ হয়নি। এরই মাঝে কিছু শিক্ষক অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে এ ভাবে পরীক্ষা করানো অসম্ভব বলে প্রতিবাদও করেন। এক কলেজ শিক্ষকের কথায়, “এত ভিড়ে সবার উপরে নজর রাখা যাচ্ছে না। তবুও টোকাটুকির ঘটনা চোখে পড়তেই আমরা পরীক্ষার্থীদের ধমক দিয়েছি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।”

কলেজ শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অধ্যক্ষের দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিশেষ কিছুই করার ছিল না। সমীরবাবু বলেন, “টোকাটুকি নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। বসতে দেওয়ার সমস্যার কথা আমি মৌখিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্‌জিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যদের জানিয়েছি। এই ঘটনার জেরে পরীক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ উভয়েই সমস্যায় পড়েছে।” উপাচার্যের কাছে খবর পেয়ে সম্মিলনী কলেজে পরিদর্শনে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্‌জিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য তথা বাঁকুড়া সারদামনি গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ গুপ্ত। অধ্যক্ষের সঙ্গে তিনি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে সিদ্ধার্থবাবু বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পরীক্ষার্থীদের বসার সমস্যা হয়েছে ঠিকই, তবে টোকাটুকির অভিযোগ ঠিক নয়।”

শুধু সম্মিলনী কলেজেই নয়, একই সমস্যা হয়েছে ইঁদপুরের শালডিহা কলেজেও। তবে সমস্যা এড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষ আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় সম্মিলনী কলেজের মতো সমস্যা এড়ানো গিয়েছে। কলেজ লাগোয়া একটি হাইস্কুলে পরীক্ষার্থীদের একাংশকে বসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কেন এই সমস্যা? সিদ্ধার্থবাবুর মতে, “পরিকাঠামোর তুলনায় কলেজগুলিতে বেশি মাত্রায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি হওয়ায় এই সমস্যা হচ্ছে। অবিলম্বে কলেজগুলির পরিকাঠামো না বাড়ানো হলে সমস্যা আরও বাড়বে।” তিনি জানান, ছাত্রভর্তিতে লাগাম টানা অথবা কলেজের পরিকাঠামো বাড়ানো ছাড়া এই সমস্যা দূর করার উপায় নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement