ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। শনিবার খয়রাশোলের বাবুইজোড় গ্রাম পঞ্চায়েত দু’জন সদস্য বিপত্তারণ মণ্ডল এবং খাইরুল আলম তাঁদের বাড়িতে ঢুকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন কাঁকড়তলা থানায়। বিপত্তারণবাবু তৃণমূলের সদস্য। খাইরুল আলম সিপিএমের টিকিটে জয়ী হলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। এ দিকে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরাও এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসাবেই পরিচিত।
অভিযোগকারীদের দাবি, সম্প্রতি পঞ্চায়েতের একটি বড় কাজের বরাত দেওয়া নিয়ে বেনিয়ম হওয়ায় তাঁরা প্রধানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তারই জেরে দলের অপর গোষ্ঠীর কয়েকজন শুক্রবার বিকেলে তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে থানায় জানিয়েছেন ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্য। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীরা। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিই তৃণমূলের দখলে আসে। সূত্রের খবর, গোড়া থেকেই পঞ্চায়েতে আব্দুর রহমান এবং মৃণালকান্তি ঘোষ ওরফে কেদারের গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। বর্তমানে কেদার গোষ্ঠীতে রয়েছেন প্রধান পার্বতী হাঁসদা-সহ চার সদস্য। অন্য দিকে আব্দুর রহমান গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় রয়েছেন উপপ্রধান সুমন্ত বাগদি-সহ সাত সদস্য। খাইরুল আলমও আব্দুর গোষ্ঠী বলেই দলের মধ্যে পরিচিত। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আব্দুর গোষ্ঠীর সদস্যরা বিডিও-র কাছে পঞায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের দরপত্রের কাজে বেনিয়মের অভিযোগ জমা দেন। বিডিও (খয়রাশোল) তারকনাথ চন্দ্র জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। খাইরুলদের অভিযোগ অস্বীকার করে পঞ্চায়েত প্রধান পার্বতী হাঁসদা দাবি করেন, নিয়ম মেনেই টেন্ডার করা হচ্ছিল। হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মন্তব্য, তদন্ত হলেই সব প্রমান হয়ে যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গোষ্ঠী কোন্দোলের কথা অবশ্য আড়ালে মেনেও নিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ঠিক কী ঘটেছে দল সেটা খতিয়ে দেখবে। তবে উন্নয়নের কাজে বাধা দিলে মেনে নেওয়া হবে না। কোনও রকম বেনিয়মও বরদাস্ত করা হবে না।’’