বেছে কেনা। বিষ্ণুপুরের চকবাজারে সোমবাজারের নিজস্ব চিত্র।
আগাম খবর পেয়েই সতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন খুচরো বিক্রেতারা, তাই আলু ব্যবসায়ীদের সংগঠন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির ডাকা এক দিনের কর্মবিরতির বিশেষ প্রভাব পড়ল না বাঁকুড়ার বাজারে।
রাজ্যের বিভিন্ন সীমানা এলাকায় আলুবোঝাই ট্রাক আটকে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করেন আলু ব্যবসায়ীরা। এই কর্মবিরতির জেরে বাঁকুড়াতেও এ দিন হিমঘর থেকে আলু বের করা হয়নি। কিন্তু, বাজারে মজুত আলুর পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকায় অবশ্য ক্রেতাদের নিরাশ হতে হয়নি। কিন্তু, আলু বিকোচ্ছে যথষ্ট চড়া দরেই। জেলার বাজারে জ্যোতি আলুর দাম ইতিমধ্যেই কেজিতে ২০ টাকা ছুঁয়েছে। সোমবারও একই দামে আলু বিক্রি হয়েছে।
বাঁকুড়া শহরের চকবাজারের সব্জি বিক্রেতা গাঁধী দাস বলেন, “শুক্রবারই আমরা কর্মবিরতির খবর পেয়েছিলাম। শনিবার বেশি পরিমাণ আলু কিনে রেখেছিলাম। তাই বাজারে আলুর আকাল ছিল না, দামও বাড়েনি।” জেলার বাকি দুই মহকুমা শহর বিষ্ণুপুর ও খাতড়ার বাজারেও আলুর দাম এ দিন বাড়েনি। কর্মবিরতির আগাম খবর থাকাতেই সমস্যা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন খাতড়ার জগদ্ধাত্রী সব্জি বাজারের ব্যবসায়ী পুর্ণেন্দু গরাই। তবে বিষ্ণুপুরের চকবাজারের আলু ব্যবসায়ী তারাপদ দাস বলেন, “আমার কাছে আলু ব্যবসায়ীদের কর্মবিরতির খবর ছিল না। তাই আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।” এক দিনের কর্মবিরতির জের জেলার বাজারে খুব একটা না পড়লেও আলু নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন ও রাজ্য সরকারের বিরোধের জল কত দূর গড়ায়, তা নিয়ে চিন্তিত খুচরো ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ মানুষ। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক বিভাস দে-র ক্ষোভ, “কোটি টাকা মূল্যের আলু ট্রাক রাজ্যের সীমানা এলাকায় আটকে রেখেছে রাজ্য সরকার। আলু নষ্ট হচ্ছে। বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।” তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এক দিনের কর্মবিরতি ডাকা হয়েছিল সংগঠনের তরফে।
বাঁকুড়ার মতোই পুরুলিয়ার খুচরো বা পাইকারি বাজারেও এ দিন আলুর ঘাটতি ছিল না। খুচরো বাজারে জ্যোতি আলুর দাম মোটামুটি ২০ টাকা কেজিতেই ঘোরাফেরা করেছে। চন্দ্রমুখী ২২ টাকা প্রতি কেজি। পুরুলিয়ার আলু আসে মূলত বাঁকুড়ার কোতুলপুর, জয়পুর, জয়রামবাটি এবং হুগলির কিছু এলাকা থেকে। পুরুলিয়া শহরে আলুর চাহিদা প্রতিদিন কমবেশি ১০-১২ টন। পুরুলিয়া জেলা পাইকারি আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রবীর সেন জানান, এ দিন বাজারে আলুর ঘাটতি না থাকলেও আজ, মঙ্গলবার কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু সোমবার কর্মবিরতির জেরে হিমঘর থেকে আলু বেরোয়নি, ফলে মঙ্গলবার ভিন্ জেলা থেকে পুরুলিয়া আলু কিছুটা কম আসার আশঙ্কা।