ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞানের ভাবনা ছড়িয়ে দিতে কেন্দার বালকডি কেবিএম হাইস্কুলে শুরু হয়েছে বিজ্ঞান শিবির। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের আর্থিক সহায়তায় সোমবার থেকে তিনদিনের এই শিবির শুরু হয়েছে।
সোমবার পুরুলিয়ার বাবলিং বার্ডস স্কুলের পড়ুয়াদের ‘ভূমিক্ষয় ও বৃক্ষ রোপণ’ নাটক পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিষ্কার’ পরিবেশিত হল মঙ্গলবার। নাটকটি পরিবেশন করে কেন্দা বালকডি কেবিএম হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। এ ছাড়া তিনদিনই বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা, গান ও মডেল প্রদর্শিত হয়েছে। বালকডি স্কুলের প্রধানশিক্ষক তাপসকুমার মাহাতো বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিন দিন ধরে আমাদের স্কুলে বিজ্ঞান শিবির ও বিজ্ঞান মেলা চলছে। শিবিরে ২১টি স্কুলের পড়ুয়া ও শিক্ষকরা যোগ দিয়েছেন। স্কুলের পড়ুয়ারা বিজ্ঞান বিষয়ক মডেল নিয়ে এসেছে। মডেলের কাজ এবং সমাজ জীবনে এর প্রভাব নিয়ে পড়ুয়ারাই ব্যাখ্যা করেছে। এতে পড়ুয়াদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় হচ্ছে।’’ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের আধিকারিক অমিয়কুমার কালীদহ বলেন, ‘‘আমরা প্রতিটি জেলায় এ ধরনের শিবিরের আয়োজন করেছি। মূলত বিজ্ঞান বিষয়ক ভাবনা ছড়িয়ে দিতে এবং কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করতে এই ধরনের শিবিরের আয়োজন করা হয়।’’ দফতরের এক কর্তা জানান, পুরুলিয়ার কয়েকটি গ্রামে ডাইন ও ভূতের নামে পরিবারের উপর অত্যাচারের খবর মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় এখনও এই এলাকায় কুসংস্কার রয়েছে। পড়ুয়ারাই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে গ্রামে জনমত গঠন করবে। প্রোজেক্টরের মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক চাষের পদ্ধতি দেখান হয়েছে। বালকডি স্কুলের অনিমেষ মাহাতো, মণিকা মাহাতো, রাজনোয়াগড় হাইস্কুলের স্বপন সিং বলে, ‘‘নাটকের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বার্তাগুলি আমাদের বোঝার পক্ষে অনেক সহজ হয়েছে।’’