পুরুলিয়ায় তোপ কংগ্রেসের

জেলা পরিষদ অভিযানে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। মঙ্গলবার তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বাইরের বিরাট জমায়েত করে শাসকদলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন কংগ্রেস নেতারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৬ ০০:০০
Share:

মঞ্চে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও দলের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো।—নিজস্ব চিত্র।

জেলা পরিষদ অভিযানে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব।

Advertisement

মঙ্গলবার তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বাইরের বিরাট জমায়েত করে শাসকদলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, টাকার প্রলোভন দিয়ে, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে জেলাকে বিরোধী শূন্য করতে চাইছে তৃণমূল। আর এই কাজে শাসকদল তৃণমূলকে পুলিশ সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলে একযোগে তৃণমূল ও প্রশাসনকে বিঁধলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো।

সভার প্রধান বক্তা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, শাসকদলের অঙ্গুলি হেলনে জেলার প্রশাসনিক কর্তারা চলছেন। নবান্ন থেকে নির্দেশ দিয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের দলের কাজে লাগানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা এখন তৃণমূলের নেতা হয়ে উঠেছেন। এ কোন পরিবর্তন আজ আমরা বাংলায় দেখছি!’’

Advertisement

ঝালদা নেপালবাবুর গড় হিসেবেই চিহ্নিত। গত বিধানসভা ভোটেও তিনি তৃণমূলকে হারিয়ে বাঘমুণ্ডি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। তারপরে কংগ্রেস পরিচালিত ঝালদা ১ পঞ্চায়েত সমিতি, ঝালদা পুরসভা থেকে এই কেন্দ্রের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাতে চলে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ বার তৃণমূলকে পাল্টা চাপ দেওয়ার কৌশলেই কংগ্রেসের এ দিনের জমায়েত। এ দিন নেপালবাবু অভিযোগ তোলেন, ‘‘ঝালদাকে বিরোধী শূন্য করতে মোটা টাকা দিয়ে জনপ্রতিনিধি কেনা হয়েছে।’’ কংগ্রেস ছেড়ে দলবদল করে তৃণমূলে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘বুকে হাত দিয়ে তাঁরা বলুন তো আপনারা নিজের স্বার্থের জন্য গেছেন, না উন্নয়নের জন্য গেছেন?’’ নেপালবাবুর আক্রমণের লক্ষ্য ছিল পুলিশও। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পুলিশ যদি এ ভাবে শাসকদলকে সমর্থন করে তাহলে কংগ্রেস প্রতিবাদে সামিল হবে।’’

দলের দ্বন্দ্বের জেরে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া জেলা পরিষদ সদস্য উত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের লক্ষ্য ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো। তিনি অভিযোগ তোলেন, ‘‘জেলা পরিষদের সভাধিপতি স্বেচ্ছাচারিতার মনোভাব নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে উন্নয়নের বদলে লুঠ চলছে। আর এই কাজে শাসকদলকে সহায়তা করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এই সরকারের আমলে কারা চাকরি পেয়েছেন, তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক শাসকদল।’’

সভায় বক্তব্য রাখেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক মইনুল হক। ভিড়ে ঠাসা সভা দেখে তিনি বলেন, ‘‘আন্দোলনকে ঠেকিয়ে রাখা যা্বে না।’’ পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ও দুর্নীতির প্রশ্নে জেলা পরিষদ-সহ প্রশাসনকে বিঁধেছেন।

সভার পরে ৩০ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও জেলাশাসকের কাছে পেশ করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রস্তাবগুলি নিয়ে খোলা মনে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রশাসনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।’’

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘ওঁদের তথ্য প্রমাণ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও ব্লককে বঞ্চনা করা হয়নি। কোথায় কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে, তাও দেখানো হয়েছে।’’ সভাধিপতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে চায়নি। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘দুর্নীতি হলে কাজ হচ্ছে কী করে?’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement