হামলায় আহত দলের নেতা কর্মীদের দেখতে এলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা বিষ্ণুপুরে যান।
পুলিশ নিরপেক্ষ নয়, এই অভিযোগে দলীয় কর্মীদের এ বার আইনের পথেই পুলিশের ‘মোকাবিলা’ করার পরামর্শ দিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। রাজনৈতিক হামলায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের দেখতে তথাগতবাবুর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় এসেছিল বিজেপি-র একটি রাজ্য দিল।
সম্প্রতি বিষ্ণুপুর, খাতড়া ও ইন্দাসে বিজেপি কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ দিন বিজেপি-র রাজ্যদল প্রথমে খাতড়ায় গিয়ে জখম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে। তার পর বিষ্ণুপুর ও ইন্দাসেও যায়। সব জায়গাতেই জখম কর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগতবাবুর কাছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার বিষ্ণুপুরে বিজেপি-র আইনজীবী সেলের তিন সদস্যের উপরে হামলা হয়েছিল। এ দিন তথাগতবাবুর কাছে তাঁরাও পুলিশের বিরুদ্ধে শাসকদলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। আক্রান্ত হওয়ার পরে ঘটনাস্থল থেকেই বিষ্ণুপুর থানার আইসি এবং এসডিপিও-কে বারবার ফোন করা হলেও কেউ ফোন তোলেননি বলেও অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্ত কর্মীরা। পরে পুলিশ সুপারকে ঘটনার কথা জানানো হলে তিনিও সেই ভাবে গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ।
হামলায় আহত দলের নেতা কর্মীদের দেখতে খাতড়ায় এলেন বিজেপি নেতৃত্ব।—নিজস্ব চিত্র।
এ কথা শুনে তথাগতবাবু আইনজীবী সেলের ওই তিন সদস্যকে পরামর্শ দেন, “পুলিশ যদি নিজের কাজ না করে, তাহলে আইনের পথে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করুন। আপনারা আমার চেয়েও ভাল জানবেন, এক্ষেত্রে কী কী ধারা রয়েছে। যেখানেই এই ধরনের ঘটনা ঘটবে, সেখানেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করুন।” তাঁর আরও বক্তব্য, “আপনারা পুলিশের বিরুদ্ধে কেস করুন। প্রয়োজনে হাইকোর্টে আমরা সেই মামলা নিয়ে যাব। আইনের পথেই এ বার আমরা পুলিশের মোকাবিলা করব।”
বিষ্ণুপুরে বিজেপি-র আইনজীবী সেলের নেতা শঙ্খজিত্ রায় বলেন, “এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করছে না পুলিশ। অভিযুক্তদের কাউকেই এখনও ধরা হয়নি। পুলিশ তদন্তে না নামলে এ বার আমরা তথাগতবাবুর বলা রাস্তাতেই হাঁটব।” শুধু বিষ্ণুপুরেই নয়, খাতড়া ও ইন্দাসেও তথাগতবাবুর আক্রমণের নিশানায় ছিল পুলিশ। রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা ‘রাজনৈতিক সন্ত্রাস’-এর জন্য তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করে বলেন, “উনি (মুখ্যমন্ত্রী) ভাবছেন সন্ত্রাস করেই রাজ্যকে দখলে রাখবেন। ভুল ভাবছেন। রাজ্যের মানুষ সব দেখছেন। তাঁরাই এর জবাব দেবেন।”
রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্য, কোনও সন্ত্রাসের সঙ্গেই তৃণমূল জড়িত নয়। স্থানীয় বিবাদের জেরে গণ্ডগোল হচ্ছে আর দায় চাপছে তৃণমূলের উপর। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি-ই সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তবে, এই উদ্দেশ্য সফল হবে না। মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের পক্ষেই থাকবেন।”