পড়ুয়াদের পাশে স্কুল

মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছে দূরের স্কুলে। সেখানে যাওয়ার সরাসরি কোনও বাস নেই। অথচ গাড়ি ভাড়া করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতাও নেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর। তাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন অভিভাবকেরা। তাঁদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষই। নিজেরা চাঁদা তুলে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবস্থা করলেন বাসের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:২৭
Share:

মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছে দূরের স্কুলে। সেখানে যাওয়ার সরাসরি কোনও বাস নেই। অথচ গাড়ি ভাড়া করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতাও নেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর। তাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন অভিভাবকেরা। তাঁদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষই। নিজেরা চাঁদা তুলে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবস্থা করলেন বাসের। এমন উদ্যোগের নেপথ্যে ময়ূরেশ্বরের দাসপলশা হাইস্কুল।

Advertisement

স্কুল ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছে ১৫ কিলোমিটার দূরের ময়ূরেশ্বর হাইস্কুলে। দাসপলশা এলাকা থেকে দু’বার বাস বদলে ওই স্কুল যেতে হয়। তা-ও সময়মতো সংযোগকারী বাস মেলে না। তার উপর রয়েছে ফেরার সমস্যা। এর ফলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন অভিভাবকেরা। বিশেষ করে মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না তাঁদের। ওই স্কুল থেকে এ বারে ৬০ জন ছাত্রী-সহ ১০৫ জন মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তার মধ্যে অধিকাংশই দুঃস্থ পরিবারের। তাদের কথা ভেবেই সাত দিনের পরীক্ষার জন্য নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্বভাবতই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয় ছামনা গ্রামের দিনমজুর পরেশ বায়েন, ভূধরপুরের ভ্যানচালক সৌরভ বায়েনরা বলেন, ‘‘ছেলেমেয়েদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিখরচায় বাসের ব্যবস্থা করে আমাদের সেই চিন্তা দূর করেছেন। ওঁদের ধন্যবাদ।’’

একই অভিব্যক্তি সঞ্চিতা বায়েন, সরস্বতী হাজরা, আরতি বাগদিদেরও। তারা জানাচ্ছে, বাসের ব্যবস্থা না হলে পরীক্ষাকেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছতে খুব সমস্যা হতো। বাড়ি ফিরতেও পারত না। পরের পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেওয়া হতো না। এখন আর সেই সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই তাদের আশা। এ দিকে, স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়ন্ত সাহা এবং প্রধান শিক্ষক দীপ্তিময় মণ্ডল বলেন, ‘‘অ্যাডমিট কার্ড দেওয়ার সময় ছাত্রছাত্রীদের সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর কথা বলতেই ওরা যাতায়াতের সমস্যার কথা বলেছিল। তখনই কিছু একটা করার কথা ভেবেছিলাম। সেই মতো নিজেরা চাঁদা তুলে বাসের ব্যবস্থা করেছি।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement