পদ ছাড়লেন শিবঠাকুর

দল তাঁকে বলেছিল পদ থেকে ইস্তফা দিতে। সেই নির্দেশ অমান্য করায় দল থেকে বহিষ্কৃতও করা হয় তাঁকে। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি তাঁকে। সেই দুবরাজপুরের বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের বহিষ্কৃত তৃণমূল প্রধান ঠাকুর মণ্ডল অবশেষে পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। দুবরাজপুরের বিডিও সুশান্তকুমার বালা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘তাঁর ইস্তফাপত্র হাতে পেয়েছি। প্রক্রিয়া চলছে।’’

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৫ ০১:১৪
Share:

দল তাঁকে বলেছিল পদ থেকে ইস্তফা দিতে। সেই নির্দেশ অমান্য করায় দল থেকে বহিষ্কৃতও করা হয় তাঁকে। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি তাঁকে। সেই দুবরাজপুরের বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের বহিষ্কৃত তৃণমূল প্রধান ঠাকুর মণ্ডল অবশেষে পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। দুবরাজপুরের বিডিও সুশান্তকুমার বালা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘তাঁর ইস্তফাপত্র হাতে পেয়েছি। প্রক্রিয়া চলছে।’’

Advertisement

প্রশ্নটা এখানেই, যাকে নির্দেশ দিয়েও পদ থেকে সরানো যায়নি, হঠাৎ কী হল যে তিনি শেষে সেই ইস্তফাই দিলেন? দলের কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি দলের তরফে সোজা আঙুলের বদলে আঙ্গুল বাঁকানো হয়েছিল? স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে তেমন ইঙ্গিতই মিলেছে। যদিও সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে শিবঠাকুর দাবি করেছেন, ‘‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র বিডিওকে দিয়েছি।’’ অন্যদিকে প্রায় শিবঠাকুরের কথারই প্রতিধ্বনি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ভোলা মিত্রের গলাতেও— ‘‘উনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। এর বেশি কিছু বলব না।’’

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৯ ডিসেম্বর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বালিজুড়ি পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন ৭ তৃণমূল সদস্য। তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দলের সদস্যরাই আনাস্থা আনায় প্রবল অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল স্থানীয় নেতৃত্বকে। দলের অস্বস্তি ঢাকতে বহু চেষ্টায় তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব ভোটাভুটি পর্যন্ত গড়াতে দেননি নেতৃত্ব। বিক্ষুব্ধদের অনমনীয় মনোভাব দেখে এবং তাঁদের শান্ত করতে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় খোদ তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে।

Advertisement

ঠিক হয় ভোটাভুটির প্রয়োজন নেই, এমনিতেই সরিয়ে দেওয়া হবে ওই প্রধানকে। দলীয় হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধ সদস্যরা ১৩ জানুয়ারি ভোটাভুটির দিন অনুপস্থিত থাকায় অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। আগের নিয়ম অনুযায়ী কেউ আর ওই প্রধানের বিরুদ্ধে এক বছর অনাস্থা আনতে পারতেন না। আর ঘটনার ঠিক পরেই পঞ্চায়েত আইনে সর্বশেষ সংশোধন অনুযায়ী আড়াই বছরের আগে কোনও পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধেই অনাস্থা আনা যাবে না। শিবঠাকুর মণ্ডল এটাকেই হাতিয়ার করেছিলেন। আর তাতেই প্রবল বিড়ম্বনায় পড়েছিল তাঁর দল।

যদিও শিবঠাকুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে প্রকাশ্য দাবি করেছেন ভোলা মিত্র। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ হয়নি। বরং সংঘাত চরমে ওঠে। পঞ্চায়েতের কাজে গতি কমে গিয়েছিল। বকি সদস্যেরা বেঁকে বসেন। দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। কিন্তু প্রধান পদ থেকে শিবঠাকুরবাবুকে সরানো যাচ্ছিল না।

Advertisement

দলের একটি সূত্রে খবর, শেষ পর্যন্ত পদ না ছাড়লে তাঁকে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। দলেরই এই হুঁশিয়ারির কাছেই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন শিবঠাকুরবাবু। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে শিবঠাকুরবাবু ও দলীয় নেতৃত্ব চুপ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement