পরিদর্শনে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার রামপুরহাটে তোলা নিজস্ব চিত্র।
রামপুরহাটে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কেটে গেল জমি নিয়ে থাকা যাবতীয় জটিলতা। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দফতরের দুই সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের কলেজের জন্য জমি পরিদর্শনের পরে এমনটাই দাবি করলেন রামপুরহাট হাসপাতালের সুপার সুবোধকুমার মণ্ডল।
এ দিন সকালে ওই দুই প্রতিনিধি প্রথমে আলাদা করে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার, এবং সুবোধবাবুর সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সত্যজিৎ সেন এবং রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ভবনের তনুশ্রী মণ্ডল। সুপারের সঙ্গে কথাবার্তা হওয়ার পরে সত্যজিৎবাবুরা রামপুরহাট হাসপাতালের ভিতরে থাকা জমিটি (১৮.২ একর) দেখতে যান। ওই জমিটি দেখার পরেই তাঁরা যান স্থানীয় চকমণ্ডলায়। সেখানে তাঁরা রামপুরহাট ১ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে থাকা ৭.২৬ একর জমিটি পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যেরা এ দিন অবশ্য সাংবাদিকদের সামনে কিছু বলতে চাননি। তবে, রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার জানান, মূলত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি দেখার জন্যই প্রতিনিধিদল এ দিন রামপুরহাট এসেছিলেন। তাঁরা মেডিক্যাল কলেজের মূল ভবনের জন্য রামপুরহাট হাসপাতালের ভবন-সহ নির্মিয়মান সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এর পরে মেডিক্যাল কলেজেরই একটি বিভাগ গড়ে তোলার জন্য চকমণ্ডলাতেও অবস্থিত ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিটি ঘুরে দেখেন। সুবোধবাবুর দাবি, প্রাথমিক ভাবে জমি দেখে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এত দিনে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটল।
এ দিকে, মেডিক্যাল কলেজের জন্য রামপুরহাট হাসপাতালের মূল ভবন (যা জেলা হাসপাতাল হিসাবে চিহ্নিত) এবং মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল (যার নির্মাণ শুরু হয়েছে)— দুই-ই নেওয়া হচ্ছে। তা হলে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল বা জেলা হাসপাতালের কী হবে? ব্রজেশ্বরবাবুর বক্তব্য, ‘‘মেডিক্যাল কলেজের জন্য প্রাথমিক যে পরিকাঠামো দরকার, তা বর্তমান হাসপাতালেই আছে। তাই সেটিকেই মেডিক্যাল কলেজ করা হতে পারে। আবার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে আলাদা আলাদা করে মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন ইউনিটও গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে, সবটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।’’