মূক ও বধির যুবককে পিটিয়ে খুনের দায়ে পড়শি যুবককে দশ বছরের কারাদণ্ড দিলেন বিচারক। সাজাপ্রাপ্তের নাম অক্ষয় সর্দার। বাড়ি পুরুলিয়া মফস্সল থানার পিড়রা গ্রামে। শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা আদালতের তৃতীয় কোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক কানহাইয়া প্রসাদ শাহ এই রায় দিয়েছেন।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালের ৪ জুলাই, পিড়রা গ্রামের অদূরে। পিড়রা গ্রামেই বাড়ি ছিল খুন হওয়া মূক ও বধির যুবক গুণধর সর্দারের। ঘটনার দিন বেলার দিকে নিজের ভুট্টা থেতে কাজ করছিলেন গুণধর। সেই সময়ে ছাগল, ভেড়া, গরু চরাতে যাচ্ছিলেন অক্ষয়ের বাবা মজন সর্দার। গবাদি পশুগুলি তাঁর ভুট্টা জমিতে ঢুকে পড়ে ফসলের ক্ষতি করলে গুণধর প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে বিবাদ বাধে মজন ও গুণধরের। ঘটনার পরে মজন বাড়িতে গিয়ে নিজের দুই ছেলে অক্ষয়, ডাক্তার ও স্ত্রী মালতীকে নিয়ে লোহার রড, লাঠি হাতে গুণধরকে মারতে খেতের দিকে যাচ্ছিলেন। রাস্তাতেই তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁর উপরে চড়াও হয় অক্ষয়। রড, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মার খেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই মূক বধির যুবক। আর্তনাদের আওয়াজ পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন গুণধরের বাবা মহাবীর সর্দার, মা বুলুদেবী ও পিসতুতো ভাই মনবোধ সর্দার। তাঁদেরকেও মারধর করে অক্ষয়।
ঘটনার পরে চার জনকেই পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। দু’দিন পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় গুণধরের। ঘটনার দিনেই মফস্সল থানায় অক্ষয়-সহ চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মহাবীরবাবু। গুনধরের মৃত্যুর পরে চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ। তবে সরকারি কৌঁসুলি জানান, বিচারক অক্ষয়কে বাদ দিয়ে বাকি তিন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ দিন অক্ষয় সর্দারকে খুনের দায়ে দায়ে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাবাসের রায় দেন বিচারক।
অন্য দিকে, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এ দিন স্বামীকে দশ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বাঁকুড়া আদালত। অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক (৩) সুকুমার সূত্রধর এই রায় দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০০২ সালের ১৪ আগস্ট গঙ্গাজলঘাটির রামহরিপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মী দিয়াসির সঙ্গে বিয়ে হয় বড়জোড়ার রাজপ্রসাদপুর এলাকার বাসিন্দা সুনীল ঘোষের। বিয়ের ২৮ দিন পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় লক্ষী দিয়াসির (২০) দেহ। ওই বধূর বাবা চন্দ্র দিয়াসি তাঁর জামাই-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে মেয়েকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবিতে লক্ষ্মীর উপর অত্যাচার চালাতেন তাঁর স্বামী। তার জেরেই পরিকল্পিত ভাবে লক্ষ্মীকে বিষ খাইয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ধৃতরা জামিনে ছাড়া পান। ২০০৪ সালে মামলার চার্জশিট জমা পড়ে। অরুণবাবু বলেন, ‘‘বাকি অভিযুক্তরা ছাড় পেলেও সুনীলের ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’’