রামপুরহাটে পুলিশকে মারধরে ধৃত ২, কাজিয়া তৃণমূল-বিজেপির

মদ্যপ যুবকদের হাতে পুলিশ নিগ্রহের ঘটনায়ও রাজনীতির রং লাগলো। শুক্রবার রামপুরহাটে তৃণমূল ও বিজেপি মিছিল-পাল্টা মিছিল করে। তৃণমূল অপপ্রচারের অভিযোগ করলেও ওই মারধরের মারধরের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে শুক্রবার রেলওয়ে চ্যাম্পিয়ন গ্রাউন্ড থেকে আরিফ খান ও আজিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। আরিফ এলাকার এক তৃণমূল কর্মীর ছেলে। এসডিপিও (রামপুরহাট) কোটেশ্বর রাও বলেন, “এ দিন ধৃত দু’জন মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত। মোটরবাইকটিও উদ্ধার হয়েছে।”

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৪ ০১:১১
Share:

মদ্যপ যুবকদের হাতে পুলিশ নিগ্রহের ঘটনায়ও রাজনীতির রং লাগলো। শুক্রবার রামপুরহাটে তৃণমূল ও বিজেপি মিছিল-পাল্টা মিছিল করে।

Advertisement

তৃণমূল অপপ্রচারের অভিযোগ করলেও ওই মারধরের মারধরের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে শুক্রবার রেলওয়ে চ্যাম্পিয়ন গ্রাউন্ড থেকে আরিফ খান ও আজিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। আরিফ এলাকার এক তৃণমূল কর্মীর ছেলে। এসডিপিও (রামপুরহাট) কোটেশ্বর রাও বলেন, “এ দিন ধৃত দু’জন মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত। মোটরবাইকটিও উদ্ধার হয়েছে।” ধৃতদের বাড়ি রামপুরহাটের চামড়াগুদাম এলাকায়।

তৃণমূলের মিছিলটি রামপুরহাট হাটতলা এলাকা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড পরিক্রমা করে। রামপুরহাট শহর তৃণমূল সভাপতি সুশান্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে যেখানে যা কিছু ঘটছে বিরোধীরা তৃণমূলের উপর দোষ চাপাচ্ছে। এখানেও মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বিজেপি বদনাম করছে। সেই কারণে আমরা মনে করি বিজেপি এবং সিপিএম যৌথ ভাবে রামপুরহাটে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করছে। বুধবারের ঘটনা তার একটা উদাহরণ। আমরা তাই এই চক্রান্তের প্রতিবাদ করে পুলিশকে মারার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবিতে রামপুরহাট ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আজকে মিছিল করেছি।”

Advertisement

অন্য দিকে, তৃণমূলের মিছিলের পরে দুপুর ১২টা নাগাদ বিজেপি রামপুরহাট এসডিপিও’র পুলিশকে মারধরের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করার দাবি জানায়। বিকেলে তারাও শহরে মিছিল করে। মিছিলে মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে বিজেপি নেতারা অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয়। বিজেপির মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন দলের জেলা সহসভাপতি শুভাশিস চৌধুরী। তিনি বলেন, “রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল। আর তাদেরই পুলিশ দুষ্কৃতীদের হাতে মার খাচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে রামপুরহাট হাটতলা এলাকায় কর্তব্যরত কনস্টেবল অরুণ মুখোপাধ্যায় এবং এনভিএফ কর্মী জগন্নাথ সরকারকে গালিগারাজ করার পরে মারধর করে মোটরবাইক আরোহী তিন যুবক। শুধু তাই নয়, তারা অরুণবাবুর কাছ থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বাবু শেখ নামে এক ভ্যান চালককে গ্রেফতার করে ৪ দিন পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শহরে বেআইনি মোটরবাইক ধরপাকড় এবং বেপরোয়া বাইক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বেশ কিছু বাইকও আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, জনসংযোগ বাড়াতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলা, ম্যারাথন দৌড়, দুর্গাপুজা, মহরমে পুরস্কার প্রদান, কুইজ প্রতিযোগিতা, ফ্রি কোচিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। তার পরেও কেন পুলিশ বার বার আক্রান্ত হচ্ছেন? এ ব্যাপারে অবশ্য জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কোনও মন্তব্য নেই। তবে কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement