শিশু শিক্ষাকেন্দ্র আছে। রয়েছে ছাত্রছাত্রীও। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে শাউলডিহি গ্রামের শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁইথিয়ার দেড়িয়াপুর পঞ্চায়েতের শাউলডিহি গ্রামে কোন স্কুল না থাকায় নিম্নবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডিটুকুও পার করতে পারত না। বছর কুড়ি আগে গ্রামবাসীরা এলাকায় একটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের দাবি জানান। সকলের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে এবং বাসিন্দাদের দাবি মেনে ২০০০ সালে ওই গ্রামে একটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলে জেলা শিক্ষা দফতর। কেন্দ্রটি অস্থায়ীভাবে গড়ে তুলতে বাড়ি দেন গ্রামের বাসিন্দা সাধন মুখোপাধ্যায়। হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ও দু’জন শিক্ষিকাকে নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। ধীরে ধীরে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে।
দিনের পর দিন পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকায় এলাকার লোকজন ব্লক প্রশাসনের কাছে দু’টি দাবি জানান। নিজস্ব ভবন, দুই আরও শিক্ষিকা নিয়োগ। প্রশাসনের পক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয়, নিজস্ব ভবন গড়ার জন্য যদি কেউ জায়গা দান করেন, তা হলে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ফের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সাধনবাবুই। তিনি গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে চার কাঠা জায়গা দেন। ২০০৫-৬ সালে সাধনবাবুর দেওয়া জায়গায় নিজস্ব ভবন গড়ে ওঠে। দাবি মতো নিজস্ব ভবন নির্মাণ হলে ও আর কোনও শিক্ষিকা দেয়নি প্রশাসন। এর মধ্যে প্রায় বছর দু’য়েক আগে একজন শিক্ষিকা মারা যান। সেই থেকে একজন শিক্ষিকাকে দিয়েই চলছে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি।
শিক্ষিকা যুথিকা ঘোষ (মণ্ডল) জানান, বর্তমানে এই কেন্দ্র চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৬৯ জন পড়ুয়া রয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, দুই শিক্ষিকা মিলে শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো ও মিড-ডে মিল চালাতে রীতিমতো হিমসিম খেতেন। আর এখন একজন। অভিভাবক সুবোধ মাহারা, দীনবন্ধু বাগদি, ছুতোর হেমব্রম, সুকুমার ধীবর বললেন, “দু’জন শিক্ষিকা ছিলেন। তখনই গ্রামের লোকজন আরও শিক্ষিকা নিয়োগের দাবি জানিয়ে ছিলেন। কারণ, দু’জন শিক্ষিকার পক্ষে মিড-ডে মিলের ঝামেলা সামলে পড়ানো প্রায় অসম্ভব। এই অবস্থায় চলতে থাকা শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধান সহায়িকা বা শিক্ষিকা প্রায় বছর দু’য়েক হল মারা গিয়েছেন। সেই থেকে একজন শিক্ষিকাকেই সব কাজ করতে হচ্ছে। এ ভাবে পড়াশোনা হয় না। অবিলম্বে অন্তত একজন শিক্ষিকা নিয়োগ খুব দরকার।” প্রাক্তন ও বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান ব্লক প্রশাসনের কাছে শিক্ষিকা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পরিচালন সমিতির বিদায়ী সভাপতি জয়ন্ত সাহাও বলেন, “প্রধান সহায়িকা মারা যাওয়ার পর সশ্লিষ্ট দফতরের আর একজন শিক্ষিকা নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল। কোনও লাভ হয়নি।”
শিক্ষিকা যুথিকাদেবীর কথায়, “একার পক্ষে এ ভাবে স্কুল চালানো সত্যিই মুশকিল। কিন্তু কিছু করার নেই। যতটা সম্ভব দেখছি।” সাঁইথিয়ার বিডিও জাহিদ সাহুদ বলেন, “ওই শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের সমস্যার কথা জানি। কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ সরকার থেকে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে নতুন করে নিয়োগ বন্ধ হয়ে আছে। সরকার থেকে পুনরায় নিয়োগের নির্দেশ না দেওয়া পযন্ত এভাবেই চলতে হবে।”