SIR Death in West Bengal

রোজগেরে পুত্রের নামে এসআইআর নোটিস, হাতে পেয়ে অসুস্থ মা! হাসপাতালের পথেই মৃত্যু প্রৌঢ়ার

মৃতার নাম জাইরা বিবি। নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার নতুন বেতাই গ্রামের ১৮২ নম্বর বুথের বাসিন্দা তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় নোটিস পান। রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শনিবার অবস্থার অবনতি হয় তাঁর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আবার রাজ্যে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু। শনিবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় ৬২ বছরের এক প্রৌঢ়ার। স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতার নাম জাইরা বিবি। নাকাশিপাড়া থানার নতুন বেতাই গ্রামের ১৮২ নম্বর বুথের বাসিন্দা তিনি। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে যাওয়ার জন্য তাঁর পুত্রের নামে নোটিস পাওয়ার পরেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ যেতে হতে পারে তাঁর পুত্রকে, এমন আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন। সেই আতঙ্ক থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি প্রতিবেশীদের।

Advertisement

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই বুথের বিএলও জাইরাকে শুনানির নোটিস ধরিয়ে আসেন। পরিবারের দাবি, নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ বোধ করেন জাইরা। শনিবার সকালে তাঁকে প্রথমে বেথুয়াডহরি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

জাইরার পরিবারে পাঁচ সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিন জন মানসিক প্রতিবন্ধী। জাইরা নিজেও পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন না। পরিবারের আর এক সদস্য তথা জাইরার পুত্র আস্তারুল শেখ ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়েছেন। সংসারে একমাত্র রোজগেরে তিনিই। তাঁর নামে শুনানি-নোটিস পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই প্রৌঢ়া। স্থানীয় সূত্রে খবর, নোটিস পাওয়ার পরেই তা নিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে ছোটেন জাইরা। অভিযোগ, অনেকেই তাঁকে বলেন যে, প্রমাণ জোগাড় করতে না-পারলে আস্তারুলকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তা শোনার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই প্রৌঢ়া।

Advertisement

ওই বুথের বিএলও আব্বাস আলি জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ আস্তারুলের নামে এসআইআর নোটিসটি দিয়ে এসেছিলেন। তখনই ওই প্রৌঢ়া আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। জাইরার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা কাইজার ইসলাম কাজল বলেন, “এই অসহায় পরিবারটির একমাত্র অবলম্বন আস্তারুল। তাঁর নামে নোটিস আসায় এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের ভুল ব্যাখ্যা পাওয়ায় ওই বৃদ্ধা মানসিক চাপ সহ্য করতে পারেননি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement