Beldanga Clash

বেলডাঙার অশান্তির নেপথ্যে কে? পুলিশ জানাল, ‘মূলচক্রী’ গ্রেফতার! শনিবারের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলেও দাবি

ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখকে খুন করার অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। শনিবার সকালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১০
Share:

বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সানি রাজ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার ‘মূলচক্রী’ গ্রেফতার। মূলত সাংবাদিকদের উপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তবে আরও শনিবার বেলডাঙায় অশান্তির সময়েও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ করা গিয়েছে বলে জানান মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার (এসপি) সানি রাজ। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করা হয়েছে। সেই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘মূলচক্রী’ মতিউর রহমান। এ ছাড়াও, ভিডিয়ো দেখে অশান্তি পাকানোর চেষ্টায় আরও ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান সানি। তিনি জানান, শনিবারের তাণ্ডব পরিকল্পিত!

Advertisement

ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখকে খুন করার অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল বেলডাঙায়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। তবে পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু শনিবার সকালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচলও।

শনিবারের ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিকেলে পুলিশ সুপার জানান, ‘সঙ্গত’ কারণেই পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, শুক্রবারের ঘটনাটি আবেগতাড়িত হলেও শনিবারের ভাঙচুর ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। স্টেশনের সিগন্যাল পোস্ট উপড়ে ফেলা থেকে শুরু করে সরকারি বাসে হামলা— সব ক্ষেত্রেই অশান্তি ছড়ানোর ছক ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।

Advertisement

বেলডাঙায় অশান্তির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন বেশ কয়েক জন সাংবাদিক। উন্মত্ত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্র সাংবাদিক। অভিযোগ, সোমাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়। ভিড়ের মধ্যে তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবারও একই ভাবে আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিক। পর পর দু’দিন সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার নিন্দা করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করেছে। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এই ধরনের সংগঠিত অশান্তি রুখতে পুলিশ কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে।

মহিলা সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে সানি রাজের পরামর্শ, ‘‘সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল। আমরা কাজের জন্য আপনাদের উপর নির্ভর করি। কিন্তু একটা বিনীত অনুরোধ, উত্তপ্ত কোনও পরিস্থিতিতে কাজ করতে গেলে একটু সাবধানে আসুন। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কাজ করুন।” বর্তমানে এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement