সরস্বতী পুজোয় উৎসব গড়গড়িয়ায়

রাতারাতি যেন গড়িয়াহাটের পুজো-মেজাজে ভেসে গিয়েছে বীরভূমের গড়গড়িয়া! সরস্বতী পুজোয় এ বার নিরিবিলি গড়গড়িয়ার গাঁ-ঘরে যেন উৎসবের মেজাজ! আর সে উৎসবের সুর বেঁধে দিয়েছেন, গাঁয়ের ছেলে ‘শিলু’। শিলু মানে, বাংলার পরিচিত গায়ক-অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার।

Advertisement

দয়াল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১৯
Share:

উৎসব শুরুর আগে মঞ্চে চোখ গ্রামের খুদেদের।

রাতারাতি যেন গড়িয়াহাটের পুজো-মেজাজে ভেসে গিয়েছে বীরভূমের গড়গড়িয়া!

Advertisement

সরস্বতী পুজোয় এ বার নিরিবিলি গড়গড়িয়ার গাঁ-ঘরে যেন উৎসবের মেজাজ! আর সে উৎসবের সুর বেঁধে দিয়েছেন, গাঁয়ের ছেলে ‘শিলু’। শিলু মানে, বাংলার পরিচিত গায়ক-অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার।

শনিবার সন্ধ্যায় গড়গড়িয়ায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এই শিল্পী। সে অনুষ্ঠানে সমসাময়িক বাংলা গান বা ব্যান্ডের আসর বাসাতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। যেখানে শুধু তিনি বা তাঁর সহযোগীরাই নন, গাইবেন বাংলা ব্যান্ডের অন্য জনপ্রিয় তারকারাও। পুরো দস্তুর পেশাদার ঢঙে এমন একটি অনুষ্ঠানে গ্রামের সকলকে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শিলাজিৎ নিজেই। শুধু তাই নয় গ্রামের মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতীদের উৎসাহিত করার জন্য তাঁদের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হবে অনুষ্ঠানে। গ্রামের মেয়েদের একটি নৃত্যানুষ্ঠানও রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা গ্রামই ক’দিন ধরে শনিবার সন্ধের ওই অনুষ্ঠান নিয়ে মশগুল।

Advertisement

কলকাতা থেকে এসে গ্রামের সরস্বতী পুজোকে ঘিরে গায়কের এমন উদ্যোগ কেন?

জানা গেল, গত তিন মাস ধরেই পুরোদমে এর প্রস্তুতি চলছিল। শনিবার সকালে গ্রামে গিয়ে সেটাই চোখে পড়ল। গ্রামের স্কুলের ঠিক উল্টো দিকে একটি ঘেরা জায়গায় তৈরি হয়েছে মঞ্চ। এ দিন তারই খুঁটিনাটি দেখভাল করছিলেন শিল্পী নিজেই। ‘‘ছোট বেলায় পুজোর ছুটি ও গরমের ছুটির সময় সোজা কলকাতা থেকে এখানে এসে উঠতাম। সেই গ্রামেই এখন থেকে পাকাপাকি ভাবে থাকতে চাই। শুধু মাত্র কাজের সময়টুকু কলকাতায়। যেহেতু সরস্বতী পুজোর সময় অনুষ্ঠান, তাই গ্রামের কৃতীদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও ভেবেছি।’’ —বলছিলেন গায়ক-অভিনেতা।

Advertisement


এলাকার কৃতী পড়ুয়াদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছেন শিলাজিৎ। —তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়

অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে শিল্পীর পৈতৃক ভিটে। শনিবার দুপুরে সেখানে তত ক্ষণে কলকাতা থেকে পৌছে গিয়েছেন অন্য শিল্পীরাও। সেই দলে রয়েছেন অভিজিৎ বর্মন, যাঁকে ব্যান্ড দুনিয়া চেনে ‘পটা’ নামে। গাবু, তমাল, দেবজিৎ, মধুবন্তী, শতদল আরও অনেকে। যেন চাঁদের হাট বাড়ির উঠোনে। ভিড় জমেছে তাঁদের দেখতে। যে সব পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা, তারাও কেউ কেউ এসে তাঁদের ‘শিলুদা’র সঙ্গে দেখা করে যাচ্ছে।

গড়গড়িয়ার বদলে যাওয়া উৎসবের মেজাজে মেতেছে তারাও। সঞ্চিতা পাল, অভিরূপ দাস, সুমনা মণ্ডল, বিদিশা মুখোপাধ্যায়দের কথায়, ‘‘দুটো পাওনা। এক এমন একটা অনুষ্ঠান যে গ্রামে হতে পারে সেটাই আমাদের কল্পানার অতীত ছিল। সেটাই এখন বাস্তবায়িত হবে। নবীন প্রজন্ম সংস্কৃতি মনস্ক হওয়ার সুযোগ পাবে। দুই, কৃতীদের আজ সংবর্ধিত করা হবে। সবটাই হচ্ছে শিলাজিৎকাকু আমাদের গ্রামের মানুষ বলে।’’ শিলাজিতের সংযোজন, ‘‘জানি না, গ্রামের সকলে কী ভাবে অনুষ্ঠানকে নেবেন। তবে উৎসাহ যথেষ্ট। ২২০০ আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছিলাম। আর একটিও পড়ে নেই!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement