Special Intensive Revision

‘অসঙ্গতি’-র নোটিসে প্রশ্ন সফটওয়্যার নির্ভরতা নিয়ে

নির্বাচন কমিশন সূত্রের পাল্টা যুক্তি, শুধুমাত্র সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে নোটিস পাঠানো হচ্ছে না। সাধারণ বুদ্ধি বা মানবিক দিক থেকেও প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৭
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কখনও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। কখনও অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। কখনও আবার দক্ষিণ গোয়ার সাংসদ, কারগিল যুদ্ধের ফৌজি অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ভিরিয়াটো ফার্নান্ডেজ়।

মিল একটাই। এঁরা সকলেই এসআইআর-এ তথ্যের অসঙ্গতি বা ‘লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি’-র ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের থেকে শুনানির নোটিস পেয়েছেন। একের পর এক এই ধরনের নোটিসের জেরে ফের অভিযোগ উঠল, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র সফটওয়্যার ও অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে তথ্যের অসঙ্গতি বা ‘লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ খুঁজে বার করছে। তার ফলেই সাধারণ মানুষের হেনস্থা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের পাল্টা যুক্তি, শুধুমাত্র সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে নোটিস পাঠানো হচ্ছে না। সাধারণ বুদ্ধি বা মানবিক দিক থেকেও প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএলও-দের তথ্য, নথি খতিয়ে দেখতে বলা হচ্ছে। তার পরেও তথ্যের ধোঁয়াশা থাকলে তা ব্যাখ্যার জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, “শুধু সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদম কাজে লাগিয়ে নোটিস পাঠানো হলে, আরও বহু লক্ষ মানুষ নোটিস পেতেন।”

বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের চিহ্নিত করতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, সেটাই ‘সন্দেহজনক’। পশ্চিমবঙ্গে হাওড়ায় এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত এইআরও মৌসম সরকার তথ্যের অসঙ্গতি বা ‘লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি’-র ভিত্তিতে নোটিস পাঠানো নিয়ে আপত্তি তুলে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, যে সব তথ্যের অসঙ্গতি বার করা হচ্ছে, তা অর্থহীন। এর লক্ষ্য হল একটা বড় অংশের প্রান্তিক মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।

হাওড়ার এইআরও-র এই অভিযোগের পরে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্নের আঙুল উঠেছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল বলেন, “নির্বাচন কমিশন ২০২৩ পর্যন্ত সন্দেহজনক বা ডুপ্লিকেট ভোটারদের চিহ্নিত করতে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিল। তার পরে বিহারের এসআইআর-এর সময় এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে ফের সেই সফটওয়্যার কাজে লাগাচ্ছে। এই ১২টি রাজ্যে এসআইআর-এর কাজে সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু হলেও তার জন্য কোনও লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।”

সূত্রের খবর, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের খসড়া তালিকায় নাম থাকা ১.৩৬ কোটি ভোটারকে নোটিস পাঠানোর জন্য চিহ্নিত করা হলেও আপাতত তা কমিয়ে ৮৬ লক্ষে নামিয়ে আনা হয়েছে। নিজস্ব সফটওয়্যার ও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের ১.৩৬ কোটি ভোটারকে ‘তথ্যের অসঙ্গতি’-র জন্য চিহ্নিত করে ফেলেছিল। তারপরে ফের সাধারণ বুদ্ধি ও মানবিক ভাবে প্রতিটি তথ্যের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যার ফলে প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারকে ‘তথ্যের অসঙ্গতি’-র জন্য চিহ্নিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।যাঁদের নোটিস পাঠানোর দরকারনেই বলে কমিশন মনে করছে। এর পরেও প্রতিটি ভোটারের তথ্য, নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত কতজন নোটিস পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত নয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের যুক্তি, যখন ১২টি রাজ্যে ৫০ কোটি মানুষের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে, তখন সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদমের সাহায্য নিতেই হবে। কিন্তু শুধু সফটওয়্যার কাজে লাগিয়ে কাউকে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। কারও কাছে নোটিসও যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা বলেন, ‘‘ধরা যাক, পশ্চিমবঙ্গের একটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন ভোটারের নাম অমল পাল, তাঁর বাবার নাম কমল পাল। হতেই পারে ওই বিধানসভা কেন্দ্রে বা রাজ্যে এমন দশ জন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নাম অমল পাল এবং তাঁদের বাবার নামও কমল পাল। সফটওয়্যার এঁদের সবাইকে ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলবে। তাই শুধু সফটওয়্যারের ভিত্তিতে কাজ হচ্ছে না। বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাকের অসঙ্গতির ক্ষেত্রেও একই ভাবে শুধু সফটওয়্যারের উপরে ভরসা করা হচ্ছে না।

তৃণমূল থেকে কংগ্রেস বা ডিএমকে শিবিরের অবশ্য অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন তথ্যের অসঙ্গতি নিয়ে কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেনি। বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাক ৪০ বছরের বেশি হলে বা ১৮ বছরের কম হলে তা তথ্যের অসঙ্গতি হিসেবে ধরা হবে কি না, তা নিয়ে বিএলও-রা অথৈ সাগরে পড়েছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিহারে নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর সময় সময় ডুপ্লিকেট ভোটার খুঁজতে সফটওয়্যার কাজে লাগায়নি। তাই বিহারের ভোটার তালিকায় ১৪.৫ লক্ষ ডুপ্লিকেট ভোটার থেকে গিয়েছেন। অথচ কমিশন নিজেই ২০২৩-এ এই সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছিল। নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও এক এক সময় এক এক রকম কথা বলেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন