Railway Employee died

হাওড়ায় মৃত্যু মার খেয়ে জখম প্রতিবাদীর, ধৃত পাঁচ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার শেষ রাতে অমিত রেল আবাসনের বাইরে প্রস্রাব করতে বেরিয়েছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০০
Share:

অমিতকুমার হেলা।

রেলের কর্মী আবাসনের ভিতরে চলা অসামাজিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন সেখানকার বাসিন্দা, অমিতকুমার হেলা (৩৩) নামে এক যুবক। উত্তর হাওড়ার গুলমোহর এলাকার ট্যান্ডেলবাগানের বাসিন্দা ওই যুবককে গত সোমবার শেষ রাতে পরিকল্পিত ভাবে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে কয়েক জন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। হাওড়া পুরসভার সাফাই বিভাগের কর্মী অমিতকে সে দিনই সঙ্কটজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল হাওড়া জেলা হাসপাতালে। শুক্রবার, সরস্বতী পুজোর সকালে সেখানেই মৃত্যু হল তাঁর। এই ঘটনায় চার জন মহিলা-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার শেষ রাতে অমিত রেল আবাসনের বাইরে প্রস্রাব করতে বেরিয়েছিলেন। প্রস্রাব করার পরে ঘুমের ঘোরে তিনি ভুলবশত পাশের আবাসনে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, ওই সময়ে সেই আবাসনে কয়েক জন যুবক এবং মহিলা প্রকাশ্যেই মদ্যপান করছিলেন। অভিযোগ, তাঁরাই অমিতকে দেখতে পেয়ে তাঁকে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এর পরে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। যার জেরে অমিতের পেট ফেটে গিয়ে নাড়ি-ভুঁড়ি বেরিয়ে আসে। ওই যুবকের চিৎকার শুনে তাঁর বাড়ির লোকজন ও আশপাশের বাসিন্দারা বেরিয়ে পড়েন। তাঁরাই তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ ওই যুবক মারা যান বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

এ দিন পূর্ব রেলের গুলমোহরের ওই রেল আবাসনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অমিতের মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে ভিড় করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। অঞ্জলি দেবী নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘‘পাশের কোয়ার্টার্সে নিত্যদিন মদ, জুয়ার আসর-সহ নানা অসামাজিক কাজ চলত। তারই প্রতিবাদ করেছিলেন অমিত। সেই জন্যই ওই দিন রাতে সুযোগ বুঝে ওঁকে ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিত ভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে। আমরা অপরাধীদের ফাঁসি চাই।’’ পরোপকারী বলে পরিচিত অমিতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। জানা গিয়েছে, রেলকর্মী বাবার মৃত্যুর পরে অমিত বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে রেল কোয়ার্টার্সেই থাকতেন। চাকরি করতেন হাওড়া পুরসভায়। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে এ দিন কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা সুনীতা হেলা। তিনি বলেন, ‘‘আমার একমাত্র ছেলেকে ওরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। ওদের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়।’’

ঘটনা সম্পর্কে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘মারধরের অভিযোগ পেয়ে ওই দিনই এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অমিত মারা যাওয়ার পরে শুক্রবার ওই কোয়ার্টার্সে থাকা চার মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন