—ফাইল চিত্র।
চিংড়িঘাটায় মেট্রোর উড়ালপথ তৈরির কাজ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে থমকে রয়েছে। হাওড়ায় চাঁদমারি সেতু এবং বেনারস রোড সেতুর কাজও শেষ পর্যায়ে এসে আটকে আছে। এই তিন প্রকল্পের কাজথমকে রয়েছে রাস্তায় ‘ট্র্যাফিক ব্লক’ এবং সাময়িক যান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলার কারণে। রাজ্যে জমি-জটে আটকে থাকা রেলের অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় এই তিনটি ক্ষেত্র নিয়েও রেলের অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি শ্রীরামপুরে রেলের কর্মসূচিতে এসে এ নিয়ে সমস্যার কথা শোনান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ অংশে মেট্রোপথের সংযুক্তির ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওই প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে ২০২৮ সাল পেরিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এ দিকে, হাওড়ায় রেললাইনের উপরে থমকে রয়েছে চাঁদমারি সেতু এবং বেনারস রোড সেতুর কাজ। বয়সের কারণে বর্তমানে চালুথাকা এই দু’টি সেতুরই জীর্ণ দশা। বেনারস রোড সেতু ১৯০৪ সালেএবং চাঁদমারি সেতু ১৯৩৩ সালে নির্মিত। এ বছর বর্ষার আগে টানা চার মাস কাজ চালিয়ে ওই দু’টি সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচ রোডের সংযুক্তির কাজ শেষ করে নতুন সেতু চালু করা না গেলে পুরনো সেতু যে কোনও দিন চিরতরে বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে জানাচ্ছেন রেলের কর্তারা।
সেতু দু’টির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে দেখে হাতে কিছুটা সময় রেখেই ২০১৯ সালে জোড়া সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেন রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেন চলাচল বিশেষ ব্যাহত না করেই দু’টি সেতুর রেললাইনের উপরের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেনারস রোড সেতু বো স্ট্রিং গার্ডার সেতু এবং চাঁদমারি সেতু কেব্ল-নির্ভর ঝুলন্ত সেতু। জম্মু-কাশ্মীরের অঞ্জি সেতুর আদলে ইংরেজিরউল্টো ‘ওয়াই’ আকৃতির স্তম্ভ থেকে চার লেনের প্রায় ১৫ মিটার প্রশস্ত সেতু কেব্লের মাধ্যমে ঝুলে রয়েছে। পুরনো মূল সেতুটি ৬৫ মিটার লম্বা এবং সাড়ে সাত মিটার চওড়া। নতুন সেতুর দৈর্ঘ্য তার তুলনায় কিছুটা বেশি। নতুন দু’টি সেতু চালু হয়ে গেলে পুরনো সেতু ভেঙে ওই জায়গায় রেললাইন সম্প্রসারণেরপরিকল্পনা রয়েছে রেলের। লাইন সম্প্রসারিত হলে হাওড়া স্টেশনে ট্রেনের ঢোকা এবং বেরোনো আরও মসৃণ হবে। সেই সঙ্গে আরও বেশি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।
তবে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চেয়েও জোড়া সেতুর ভগ্নদশা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন রেল। ওই দু’টি সেতুর সংযোগকারী রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ বলে জানাচ্ছে রেল। সেতু থেকে চাঙড় খসে পড়ছে। সেতু দু’টির স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে সেগুলি বন্ধ করে দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, তেমনটা হলে তার জেরে প্রভাবিত হতে পারে কর্ড এবং মেন লাইনে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল।
সমস্যা মেটাতে তাই বর্ষার আগেই শুকনো আবহাওয়ায় কাজ সম্পূর্ণ করতে চায় রেল। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি ট্র্যাফিক বিভাগকেও জানিয়েছে তারা। কিন্তু,চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্প হোক বা হাওড়ার জোড়া সেতু— দু’টিপ্রকল্পেই যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেগুরুতর সমস্যার কথা জানিয়ে ‘ট্র্যাফিক ব্লক’ করতে অস্বীকার করেছে পুলিশ। দুই তরফের টানাপড়েনে প্রকল্প ঘিরে জট এবং সমস্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে রেলের অভ্যন্তরেও।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে