Egging at Mahua Moitra

মহুয়াকে ডিম ছোড়ায় প্রতিক্রিয়া জাতীয় স্তরে

বুধবার দুপুরে মহুয়া কালীগঞ্জের পলাশিতে দলীয় বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে কর্মিসভা করতে গেলে, জানলা তাক করে লাগাতার ডিম-পচা আনাজ ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৮:০২
Share:

মহুয়া মৈত্র। ফাইল চিত্র।

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের উপরে ডিম-হামলার ঘটনায় সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপিকে বিঁধলেন বিরোধীরা। হামলাকারীদের নামের একটি তালিকা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মহুয়া। তাতে বিধানসভা ভোটে কালীগঞ্জ কেন্দ্রে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ, বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি রথীন প্রামাণিক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নাম রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে কৃষ্ণনগর পুলিশ-জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি বলেন, “একটা অভিযোগ জমা হয়েছে। সব কিছুই তদন্ত করা হচ্ছে।”

বুধবার দুপুরে মহুয়া কালীগঞ্জের পলাশিতে দলীয় বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে কর্মিসভা করতে গেলে, জানলা তাক করে লাগাতার ডিম-পচা আনাজ ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এ দিন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “বিজেপি তাদের শাসিত রাজ্যগুলিতে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে শক্তির অপপ্রয়োগ করে রাজনৈতিক হিংসার বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করছে এবং পুলিশের রাজনীতিকরণ করছে।” কংগ্রেসের অশোক গহলৌতের মতে, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী প্রত্যেক নাগরিক এবং সব রাজনৈতিকদলের এক স্বরে এর প্রতিবাদ করা দরকার।” আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-এর বক্তব্য, “রাজনীতি যদি এই চেহারা নেয়, তবে ওগুলি নিছক ডিম নয়, পাথর।”

দলীয় সাংসদদের নিরাপত্তার দাবি জানাতে এ দিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি দেখা করেননি। পরে অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে সৌগতের প্রশ্ন, “এ বার কি সাংসদেরা নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রেও যেতে পারবেন না!” সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রগতিশীল মহিলা সমিতির অভিযোগ, “ভিডিয়ো থেকেই দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী উন্মত্ত ভিড় সরায়নি।”

পুলিশ অবশ্য দাবি করছে, বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের আশপাশে ছড়িয়ে ছিলেন। সেখানে কে ডিম ছুড়েছে, ভিডিয়ো বা ছবির ভিত্তিতে তা স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা সহজ নয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, “বিজেপির অ্যাজেন্ডায় পচা ডিম, আলু, বেগুন, ঝিঙে নেই। তৃণমূল তৃণমূলকে মারছে। যদি কোনও বিজেপি কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মনে করেন, নাম-ঠিকানা পাঠান। ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয় সূত্রে অবশ্য ডিম-ছোড়া জনতার মধ্যে তৃণমূলের নেতা-কর্মীর মিশে থাকার খবর নেই। বরং, ‘বিক্ষোভে নেতৃত্ব’ দেওয়া বিজেপি নেতা অমর মণ্ডল দাবি করেন, তাঁরা গণতান্ত্রিক কর্তব্য করেছেন। আবার বাপন ঘোষের দাবি, “ওখানে বিজেপির কেউ ছিল না। আমিও ছিলাম না। ক্ষুব্ধ জনতা এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে।” রথীন প্রামাণিকের দাবি, “আশপাশে ছিলাম ঠিকই, কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক নেই।”

মহুয়ার পাশে অন্য তৃণমূল নেতাদের দেখা যায়নি কেন, সে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বুধবার দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে মহুয়াও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিধায়ক আলিফা আহমেদের বক্তব্য, “আগেই জানিয়েছিলাম, কাজ থাকায় আসতে পারব না। ব্লক সভাপতি অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। কর্মসূচির খবরও অনেকের কাছে পৌঁছয়নি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন