বারুইপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার র্যাম্পে হাঁটানো তিন ‘মৃত’ ভোটারের ঘটনায় রিপোর্ট জমা পড়ল নির্বাচন কমিশনের কাছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বারুইপুরের জনসভার র্যাম্পে তিন জনকে তুলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) খসড়া তালিকায় তাঁরা ‘মৃত’! সেই ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়ল নির্বাচন কমিশনের কাছে। সংশ্লিষ্ট ইআরও (নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) সেই রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। কমিশন সূত্রে খবর, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা রয়েছে ওই রিপোর্টে।
কমিশন সূত্রে খবর, রবিবার ‘মৃত’ ভোটার সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে। ওই তিন জনের মধ্যে দু’জনের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। খসড়া তালিকায় আর এক জনকে ‘মৃত’ দেখানো ভুল বলে স্বীকার করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে।
গত শুক্রবার বারুইপুরে জনসভা করেছিলেন অভিষেক। সেই সভায় র্যাম্পে ‘চমক’ দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বক্তৃতার মাঝে তিনি তিন জনকে র্যাম্পে তোলেন। তাঁদের নিয়ে হাঁটেন অভিষেক। দাবি করেন, খসড়া তালিকায় তাঁরা সকলেই ‘মৃত’। ওই তিন ভোটার হলেন মনিরুল মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি এবং মায়া দাস। তাঁদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ এবং এক জনের বাড়ি কাকদ্বীপে। সেই ঘটনা নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, রবিবার জমা পড়া রিপোর্টে মনিরুল এবং হরেকৃষ্ণের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভুল বলে জানানো হয়েছে। বুথে তৈরি বাদের তালিকায় নাম ছিল না তাঁদের। পরে কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া বাদের তালিকায় দেখা যায় তাঁদের নাম রয়েছে। ওই ঘটনা নজরে আসার পরে সংশ্লিষ্ট বিএলও মনিরুল এবং হরেকৃষ্ণের বাড়িতে যান। তাঁদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৬ পূরণ করে নতুন ভাবে নাম তোলার আবেদন করা হয়েছে। তবে মায়ার ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি ভুল বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
এই রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে কমিশন। অতীতেও এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে রিপোর্ট পাওয়ার পরে খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হয়েছে। চণ্ডীপুরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে শো কজ় করা হয়েছিল। এ বার এই ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়, তা রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।