—প্রতীকী চিত্র।
স্থানীয় স্তরে সরকারি পরিষেবার প্রশ্নে কৌশল বদলাচ্ছে নবান্ন। তাতে এখন বিধায়কদের ভূমিকা সরাসরি সক্রিয় হতে চলেছে। যে ইঙ্গিত সরকার গড়ার পরেই দিয়েছিল বিজেপি। বিধায়ক এবং প্রশাসনিক সূত্রের খবর, চলতি বাজেটে স্থানীয় স্তরে উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলির বেশির ভাগই জায়গা পেয়েছে বিধায়কদের দেওয়া প্রস্তাবগুলি থেকে। তাৎপর্যপূর্ণ, তার মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছিল বিরোধী বিধায়কদের থেকেই। বিগত কয়েক দশকে এমন ছবি কার্যত বিরল ছিল বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আধিকারিকদের একাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল প্রকাশের পরে বিরোধী তৃণমূলে যে ভাবে আদি-নব্যের সাংগঠনিক বিভাজন ঘটেছে, সমান্তরালে সরকারি জনপরিষেবার মূল স্রোতে গা-ভাসিয়ে নব্য তৃণমূলের ইতিবাচক বিরোধী হওয়ার প্রচেষ্টা খুব তাৎপর্যপূর্ণ।
বিগত প্রায় ১৫ বছরে সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রশ্নে বিডিও, এসডিও, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং জেলাশাসকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সেই কাজে বিধায়কদের সরাসরি যোগের কোনও উদাহরণ পাওয়া যেত না।
শুধু মাত্র দুয়ারে সরকারের শিবিরগুলি চালু হওয়ার পরে সীমিত কিছু ভূমিকা ‘প্রভাবশালী’ শাসক-বিধায়কদের একাংশকেই দেওয়া হত। স্বীকৃতই হত না বিরোধী বিধায়কদের অস্তিত্ব। সরকার বদলের পর থেকে এই ছবি বদলাতে শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকগুলিতে ডাক পেতে থাকেন বিরোধী দলের বিধায়ক-সাংসদেরা। সেই বৈঠকগুলিতেই শাসক-বিধায়কদের সঙ্গে বিরোধী বিধায়কেরাও সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীকে স্থানীয় স্তরে উপযুক্ত পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেগুলিকেই পৃথক ভাবে বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে নবান্ন এবং তা ঠাঁই পেয়েছে এ বারের বাজেটে। এ ক্ষেত্রে পরিকাঠামো থেকে কৃষি সমস্যা, স্থানীয় কর্মসংস্থান থেকে পরিযায়ীদের সমস্যা— সব ক্ষেত্রেইপরামর্শগুলি ছিল।
এ বারের বাজেটে বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থাঙ্ক আগের ৭০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি টাকা। যা প্রতি বছর স্থানীয় এলাকা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন বিধায়কেরা। অভিযোগ ছিল, অতীতে বিরোধীরা এই তহবিল ব্যবহার করতে গিয়ে যথেষ্ট বাধাপ্রাপ্ত হতেন। নানা ধরনের প্রশ্ন তুলে আটকে দেওয়া হত সেই তহবিলের বরাদ্দও। ফলে সরকারি পরিষেবা প্রদানের প্রশ্নে সব এলাকায় সমান ভাবে কাজ হয়নি।
আধিকারিকদের মতে, রাজনীতি যা-ই থাকুক, নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে সড়ক, সেতু, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, শিক্ষার মতো বিষয়গুলি। যে সব এলাকায় বিরোধীরা অতীতে জিতেছিলেন, সেখানে এই সব কাজে ভাটা পড়ত। তার প্রতিফলনও গ্রামীণ ভোটবাক্সে পেয়েছে তৃণমূল।
বিগত ভোটেও রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলের ‘মুখ’ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন সেই ‘মুখ’ বাদ দিয়েই নতুন তৃণমূলের মঞ্চে জোটবদ্ধ হয়েছেন বেশির ভাগ বিধায়ক। উল্টো দিকে, বিজেপির পক্ষে বিপুল জনসমর্থন থাকায় পরিষেবার প্রশ্নে মানুষের প্রত্যাশাও তাইবাড়ছে ক্রমশ।
এই অবস্থায় বাজেটে স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা, শিল্প থেকে পরিকাঠামো, কৃষি থেকে কর্মসংস্থান— সবেতেই দরাজ হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই স্রোতের সঙ্গে না থাকলে বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই দিক থেকে বাজেটে বিরোধীদের পরামর্শ থাকাকে অর্থবহ বলে মনেকরছেন অনেকে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে